নানিয়ারচরে ৩টি ইউপিতেই নেই নিজস্ব ভবন:দূর্ভোগে এলাকাবাসী


মাহাদি বিন সুলতান    |    ০২:১৪ পিএম, ২০২১-০৭-১৭

নানিয়ারচরে ৩টি ইউপিতেই নেই নিজস্ব ভবন:দূর্ভোগে এলাকাবাসী

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির প্রত্যন্ত নানিয়ারচর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৩টিতেই নেই পরিষদের নিজস্ব ভবন। এনিয়ে প্রায়শই ভোগান্তির স্বীকার হন সেবা নিতে আসা ইউনিয়নের বাসিন্দারা। দূর দুরান্ত থেকে পায়ে হেটে সেবা নিতে আসা গ্রাহকগণ ১টা চেয়ারম্যান সনদপত্র নিতেও দাড়িয়ে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক্ষ্যং, নানিয়ারচর, বুড়িঘাট ও ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের মধ্যে শুধুমাত্র ২নং নানিয়ারচর ইউনিয়নেই রয়েছে পরিষদের নিজস্ব ভবন। তবে নানিয়ারচর ইউনিয়নের নিজস্ব ভবন থাকলেও সেখানে গিয়ে কাঙ্খিত সেবা পান না এমনটাই অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক্ষ্যং, বুড়িঘাট ও ঘিলাছড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সনদপত্র, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এমনকি ট্রেড লাইসেন্স করতে গিয়েও নানা রকম ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস¦ ভবন না থাকায় ইডিসি (ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার) থেকেও পাওয়া যায়না প্রয়োজনীয় সেবা। পাওয়া যায়না গ্রাম পুলিশ বা বিট পুলিশিং সেবা। কৃষি বিষয়ক কোন সেবা ও মেলেনা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে। 

উপজেলার সংরক্ষিত আসনের এক নারী ইউপি সদস্য জানান, এক রুমে আমরা জনপ্রতিনিধিরাই ঠিকমত বসতে পারিনা। ইউনিয়নের নিজস্ব জায়গা থাকলেও নেই নিজস্ব ভবন। এতে করে জনসাধারণ যেমন ভোগান্তির স্বীকার হন, জনপ্রতিনিধিরাও পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। 

সাবেক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন থাকলেও নানিয়ারচরে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনগণ এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিজস্ব ভবন না থাকায় নিয়মিত সেবা সেবা দেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। 

ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানালেন, সপ্তাহ শেষে হাটের দিন পাহাড় ও ছড়া (খাল) পার হয়ে স্থানীয়রা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামাগ্রী কিনতে হাটে আসে। একই দিনে অনেকে চেয়ারম্যান অফিসে আসেন প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিতে। তখন তাড়াহুড়োর মধ্যে সেবা দেওয়ার বিষয়টা গোলমেলে হয়ে পড়ে। 

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন থাকার পরও ২নং নানিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না স্থানীয় জনগণ। এবিষয়ে জানতে চাইলে নানিয়ারচর সদর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, গত ২বছর যাবৎ আমার ছেলের জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে পারিনি। আজ না কাল এভাবেই পার হচ্ছে দিন। এবিষয়ে জানতে চাইলে নানিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য প্রিয়তোষ দত্ত জানান, চেয়ারম্যান সাহেব যখন থাকেন না এই সুযোগে সচিব ও কোন রকম চাকরী করে যাচ্ছেন আরকি। 

জানতে চাইলে অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে নানিয়ারচর ইউপি সচিব সুমন বড়ুয়া জানান, আপনি এই ব্যাপারে চেয়ারম্যান সাহেব থেকে ফোন করে জানতে পারেন। চেয়ারম্যান সাহেব কে ফোন করে পাওয়া যাচ্ছেনা জানালে প্রতিবেদক কে তিনি জানান “এখন ফোন করেন পাবেন।” কিন্তু এর পরে নানিয়ারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতি লাল চাকমাকে বেশ কয়েকবার ফোন করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এদিকে উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন পরিষদে নিজস্ব ভবন না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা জানান, দেশের প্রতিটা ইউনিয়নেই পর্যায়ক্রমে পরিষদের নিজস্ব ভবন হবে। সরকারের এই পক্রিয়া চলমান আছে। এটার জন্য ইউনিয়ন পরিষদকে একটু তদবির করতে হবে। তাছাড়া এর জন্য ইউনিয়ন পরিষদেরও নিজস্ব জায়গা থাকতে হয়।