সাজেকে আন্দোলনে হেডম্যান-কারবারিদের ব্যানার ‘হাইজ্যাকের’ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ


আলমগীর মানিক    |    ০২:৩৭ এএম, ২০২৬-১০-২৬

সাজেকে আন্দোলনে হেডম্যান-কারবারিদের ব্যানার ‘হাইজ্যাকের’ চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

আলমগীর মানিক


রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে চলমান আন্দোলনে হেডম্যান-কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানার ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের ব্যবহৃত ব্যানারটি সংগঠনের নয় বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট হেডম্যান কার্বারিদের সংগঠন। তথাকথিত আন্দোলনকারিরা পাহাড়ের সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত হেডম্যান-কার্বারীদের সংগঠনের ব্যানার অনেকটা হাইজ্যাক করে সাজেকে ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছে সাধারণ হেডম্যান-কার্বারিরা। 

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের নেতৃত্ব, দাবিদাওয়ার প্রতিনিধিত্ব এবং আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। উক্ত বিষয়টির প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধানে কারবারিদের নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সাজেকের চলমান সংকট নিরসনে রোববার (২৫ অক্টোবর) রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে হেডম্যান ও কারবারিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় পাহাড়ের চলমান অস্থিরতা নিরসনে আলোচনার এক পযায়ে উক্ত চাঞ্চল্যকর এই বিষয়টি উঠে আসলে সর্বসম্মতিক্রমে তদন্ত কমিটির গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  

এসময় উক্ত সভায় অন্যান্যের মধ্যে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, সামরিক ও বেসামরিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং হেডম্যান-কারবারি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে আন্দোলনে ব্যবহৃত ব্যানার নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং আন্দোলনকারীদের পক্ষে কারা কথা বলবেন, তা স্পষ্ট করা এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোববার রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সংশ্লিষ্ট হেডম্যান কার্বারিদের সংগঠনের দাবি, আন্দোলনকারীদের ব্যবহৃত হেডম্যান-কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারটি সংগঠনের নয়। এ ঘটনায় ব্যানারটি কীভাবে আন্দোলনকারীদের হাতে গেল, কারা এটি ব্যবহার করেছেন এবং সংগঠনের অনুমোদন ছিল কি না? এসব বিষয় যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নির্ধারণে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই কমিটির সার্বিক বিষয় তদারকি করতে বাঘাইছড়ির ইএনওকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া।

এই বিতর্কে বড় হয়ে উঠেছে কয়েকটি প্রশ্ন; আন্দোলনের পক্ষে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, হেডম্যান-কারবারিদের সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলনকে সমর্থন করছে কি না এবং আলোচনার টেবিলে কারা সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবেন? এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না থাকলে সংলাপের উদ্যোগ ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সভায় অংশগ্রহণকারিরা।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন,  সাজেকের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের সামনে এখন দুটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ; একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনায় এনে বিরোধের গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা।