সাজেকে পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার নিন্দা পিসিসিপির


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ০২:৩২ পিএম, ২০২৬-১০-২৩

সাজেকে পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার নিন্দা পিসিসিপির

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটন সড়কে পর্যটকবাহী গাড়িবহর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠনটি এ ঘটনার জন্য ইউপিডিএফের (প্রসীত) সশস্ত্র সদস্যদের দায়ী করে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে পিসিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে সাজেক থেকে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা প্রহরায় পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার পথে উজো বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। সংগঠনটির দাবি, এ সময় ইউপিডিএফের (প্রসীত) সশস্ত্র সদস্যরা শত শত রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে ছয়জন পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।

পিসিসিপির নেতারা বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, এ ধরনের সশস্ত্র হামলা ও সড়ক অবরোধ সাজেকের পর্যটন খাত, স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা এবং জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তাঁদের মতে, পর্যটকদের জিম্মি করে রাজনৈতিক বিরোধে চাপ সৃষ্টি করা হলে এর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষের।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাজেকের রিসোর্ট-কটেজ মালিক, জিপচালক, পরিবহন শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার সঙ্গে পর্যটন খাত সরাসরি যুক্ত। আসন্ন শীতকালীন পর্যটন মৌসুমের আগে অবরোধ ও সংঘাতের কারণে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করে সংগঠনটি।

পিসিসিপির নেতারা আরও উল্লেখ করেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে পানছড়ি ও সাজেক এলাকায় দুই সশস্ত্র আঞ্চলিক দলের মধ্যে বিরোধ ও সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাজেকের মন্দিরাপাড়ায় শিশু কষ্মিতা চাকমা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাসহ বিভিন্ন সংঘাতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে বিবৃতিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বতন্ত্র যাচাইয়ের তথ্য দেওয়া হয়নি।

বিবৃতিতে স্কুলের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগও তোলা হয়। পিসিসিপি নেতারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের সশস্ত্র তৎপরতার বিরুদ্ধে বৈষম্যহীনভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে চারটি দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সাজেক সড়কে হামলা ও গুলিবর্ষণে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা, সাজেকসহ পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র তৎপরতা ও চাঁদাবাজি বন্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার করা, সাজেক পর্যটন সড়কে পর্যটক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবরোধের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

বিবৃতিতে পিসিসিপির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম বলেন, সাজেক কোনো গোষ্ঠীর একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জায়গা নয়। এটি মানুষের বসতি, জীবিকা ও দেশের একটি সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র। ২৩ অক্টোবরের পরও কেউ অশান্তি বা অবরোধের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

বিবৃতির শেষাংশে হামলায় আহত পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়। একই সঙ্গে পাহাড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত বা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে কোনো তথ্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।