রাজস্থলীতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মানবেতর জীবনযাপন


আইয়ুব চৌধুরী    |    ০৯:৪০ পিএম, ২০২১-০৭-১০

রাজস্থলীতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মানবেতর জীবনযাপন

করোনায় প্রভাবে বেহাল দশা, রাজস্থলী বেসরকারী নিন্ম মাধ্যমিক ও  মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলা বেশ কয়েকটি বেসরকারী নিন্ম মাধ্যমিক ও  মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের মধ্য ঘিলাছড়ি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাথুইপ্রু প্রুহ্লাউ হেডম্যান স্মৃতি নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও রাজস্থলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অন্যতম।

এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত শিক্ষা দিয়ে মানুষ গড়ার কারিগররা এখন নিজেরা হাহাকার। 

জানা যায়, এ উপজেলায় অন্তত ৪/৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্টানে শিক্ষক / শিক্ষিকা কর্মচারী সহ প্রায়  ৪০জন বেশি কাজ করতেন। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, তাদের মাসিক আয় শুধু এ পেশা উপর নিভর্রশীল। আর তাদের বেতন ভাতা মূলত, শিক্ষার্থীদের থেকে আদায় করা হত। ফলে এ অবস্থায় এ সব শিক্ষক চলমান লকডাউনে পড়েছেন মারাত্নক আর্থিক সংকটে।

রাজস্থলী উপজেলার ১ নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের, ঘিলাছড়ি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজল কুমার তনচংগ্যা জানান,বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর থেকে আমাদের বেতন ভাতা বন্ধ। গতবছর প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা সামান্য কিছু টাকা ছাড়া অদ্যাবধি কোন সাহায্য পাইনি। দিন দিন বেকারত্বের গ্রাসে আবদ্ধ হয়েছি গোটা বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীগন। শিক্ষকদের দাবি এ ভাবে চলতে থাকলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্টান। ফলে দক্ষ এবং জ্ঞানী শিক্ষকের অভাবে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে শিক্ষা কার্যক্রম। তাই দ্রুত এদের প্রণোদনার আওতায় না আনা হলে দুর্গম পার্বত্য রাজস্থলী অঞ্চলে ভেঙ্গে পড়বে  বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।

রাজস্থলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রহিমা আক্তার জানান, করোনা শুরুর পর থেকে প্রতিষ্টান বন্ধ থাকায় আমরা আর্থিক ভাবে সংকটে পড়েছি।

মাথুইপ্রুু প্রুুলাউ হেডম্যান,  স্মৃতি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান উথিনসিন মারমা জানান, করোনা কালে আমরা শিক্ষকদের মোটেই কোন সম্মানী ভাতা দিতে পারিনি। ফলে অনেকেই জীবিকার তাগিতে কেউ ব্যবসা আবার কেউ জমি বর্গা নিয়ে চাষবাসে জড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে সকল  বে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্টান অদূর ভবিষ্যতে শিক্ষক সংকটের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাঙালহালিয়া পাহাড়িকা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সামশুল আলম জানান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলোর শিক্ষকদের বেতন বন্ধ। এ ভাবে চলতে থাকলে এ উপজেলার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলো অদুর ভবিষ্যতে অচল হয়ে পড়বে এতে কোন সন্দেহ নেই। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে অতি জরুরী হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সু নজরে এনে কর্মহীন হয়ে পড়া শিক্ষকদের মানবেতর জীবন থেকে রক্ষা করার উদাত্ত আহবান জানান, এসব  বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষিকা ও কর্মচারীবৃন্দ।