বরকলে প্রতিপক্ষের হামলায় ক্ষমতাসীনদলের দুই নেতা গুরুত্বর আহত: চট্টগ্রামে রেফার্ড


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০১:০৬ এএম, ২০২০-১১-০৭

বরকলে প্রতিপক্ষের হামলায় ক্ষমতাসীনদলের দুই নেতা গুরুত্বর আহত: চট্টগ্রামে রেফার্ড

রাঙামাটির বরকল উপজেলায় ক্ষমতাসীনদল আওয়ামীলীগের অর্ন্তকোন্দল চরম আকার ধারন করছে। হামলা, মামলা-পাল্টা মামলার শিকার হয়ে বরকল আওয়ামীলীগের অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মী নিজেদের মধ্যে চরম শত্রুতাবস্থায় মুখোমুখি অবস্থান করছে।

শুক্রবার আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে বেদড়ক পিঠিয়ে সেই শঙ্কারই বহিঁপ্রকাশ ঘঠিয়েছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। রাঙামাটি থেকে বরকলের উন্নয়ন কাজগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনে যাওয়া কয়েকজন সাংবাদিকের সামনেই নির্মম মারধরের শিকার হয়েছেন সাবেক বরকল উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক স্থানীয় সাংবাদিক আরিফ সিকদার ও সাবেক বরকল উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শামসুল আলম। শুক্রবার সকালে বরকলের ভূষনছড়া ইউনিয়নের সরকারপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। ব্যাপক মারধরের আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ায় হামলার শিকার দুইজনকে রাঙমাটি জেনারেল হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়। আহতরা জানায়, বরকল উপজেলায় ভূষণছড়া ইউনিয়নের ৭নং চেকদোয়াছড়া পাড়ায় সরকারী ব্রিজ হওয়ার পর বাজেট বরাদ্দ হয় ২০ লক্ষ টাকার ব্রিজ এর কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি এই মর্মে একদল লোক জড়ো হয়ে বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা করতে থাকে। তবে উক্ত কাজের ব্যাপারে সাংবাদিকগন পরিদর্শনে আসে। এসময় চ্যানেল২৪ এর সাংবাদিক জিয়াউল হক উক্ত ব্রীজটির পাইলিংয়ের কাজ সম্পর্কে অত্র এলাকার ইউনিয়ন দলনেতা শামসুল আলমক ও চৌকিদার আহমদ ফরাজিকে জিজ্ঞেস করতে চাইলে মোতালেব, শাহীন, রফিক পিসি, সায়েরা, দয়াল চাকমা, সুলতান মিস্টিওয়ালা, বেলাল ও হাসানের নেতৃত্বে প্রায় ২০-২৫ জনের একটা গ্রুপ ৭নং ওয়ার্ডের চৌকিদার আহমদ ফরাজির ওপড় প্রথমে চড়াও হয়। এসময় স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম উক্ত হামলার প্রতিবাদ করে। সাথে সাথেই উপস্থিত থাকা ছালাম, গনি, সোহেল, বেলাল, শাকিল, ফরিদ, এখলাস, শাহজাহান, আদম, জান্নাতসহ আরো কিছু ব্যক্তি মিলে রড, শাবল ও লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে মারধর শুরু করে।

এসময় শামসুল আলম চ্যানেল২৪ এর সাংবাদিক জিয়াকে উক্ত বিষয়টি অবগত করতে চাইলে রফিক পিসিসহ, গনি, ছালাম, ফরিদ, সায়েরা, লিঠান, হানিফ, ইলিয়াসসহ আরো প্রায় ১০ -১৫জন মিলে তাকে রড শাবল ও লাঠি দিয়ে মাটিতে ফেলে মারধর করতে থাকে। বরকল থানার অফিসার ইনচার্জ জসিম উদ্দিন জানায়,আমাদের কাছে এখনো কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বরকলের সাবেক এক উপজেলা চেয়ারম্যান ও রাঙামাটি জেলা পরিষদের সাবেক একজন সদস্য উভয়ের মতবিরোধের কারনেই তাদের অনুসারিরা অর্ন্তকোন্দলে জড়িয়ে পড়ে। এতে করে ক্ষমতায় থাকার পরেও স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও দলটির অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে একের পর মামলা-হামলাসহ গ্রামে গ্রামে অর্ন্তকোন্দলে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় প্রতিদিনই একটা না একটা ঝামেলায় তৃণমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জড়ালেও উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সেই দুই নেতা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকছে। নেতাদের নেতৃত্বের অযোগ্যতার কারনেই প্রতিদিনই হামলার ঘটনায় জড়াচ্ছে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা। ক্ষমতাসীন দলের তৃনমুল পর্যায়ের এই ধরনের অর্ন্তকোন্দল অদূর ভবিষ্যতে দলটিকে আরো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করবে বলে মনে করছে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।