পূর্ণিমা চাকমা হত্যার বিচারের দাবী পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের


প্রেস বিজ্ঞপ্তি    |    ১১:৪৪ এএম, ২০২১-১১-০৪

পূর্ণিমা চাকমা হত্যার বিচারের দাবী পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের

রাঙ্গামাটি সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী পূর্ণিমা চাকমা হত্যার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে বিচার ও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার পক্ষ হতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে অদ্য সকাল ১১.০০ টায়।

উক্ত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের রাঙামাটি জেলা শাখার সদস্য সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক মোঃ তাজুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ কাজী মজিবর রহমান মজিব, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর কবির, রাঙামাটি জেলার সহ-সভাপতি কাজী জালোয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোলায়মান, মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদা বেগম, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সিঃ সহ-সভাপতি মোঃ হাবিব আজম, আরো বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আমিনুল ইসলাম চংকু, সাহিত্য বিষয়ক মোঃ সাইফুল, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক শরিফা খানম।

বক্তরা বলেন গত (শুক্রবার) ২৯ অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দে রাঙামাটিতে ১৯ বয়স বয়সী পূর্ণিমা চাকমা নামে এক কলেজছাত্রী স্বজাতি কর্তৃক ধর্ষিত হয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। কলেজছাত্রী পূর্ণিমা চাকমা জেলার জুরাছড়ি উপজেলার ৪ নং দুমদুম্য ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বগাহালি এলাকার সাধন চাকমার মেয়ে। সে রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। বক্তরা আরো বলেন, পূর্ণিমা চাকমা রাঙামাটি শহরে রাজবাড়ি এলাকায় এক প্রভাবশালী জেএসএস সন্তু গ্রুপের নেতার বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি যে বাসায় ভাড়া থাকেন সেই বাড়ি মালিক জেএসএস সন্তু গ্রুপের নেতা। বাসার মালিক কৃর্তক বারবার যৌন হয়রানি হয়েছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে ঐ বাসার মালিক আত্মগোপেন রয়েছে। পূর্ণিমা চাকমাকে যৌন হয়রানি ও একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। পূর্ণিমা চাকমা ধর্ষণের কথা প্রকাশ করে দিবে এইভেবে তাকে হত্যা করে তার লাশ ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

এবং পরবর্তীতে ঘটনার দামাচাপা দিতে আবার চিকিৎসার জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালেও নিয়ে যায়। যা থেকে সবাই ভাববে পূর্ণিমা চাকমা আত্মতহত্যা করেছে, পরিবারের পক্ষ থেকে এমনই অভিযোগ করা হয়। এদিকে পূর্ণিমা চাকমার দরিদ্র পরিবারের উপর আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনের প্রবল চাপের মুখে পরিবারের সদস্যরা মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে। বাংলাদেশে মানবাধিকার সংগঠন সহ যারা নারী নির্যাতনের বিষয়ে ও উপজাতিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার সবাই এখন চুপ, কোন প্রতিবাদ করেনি। মেয়েটি চাকমা সম্প্রদায়ের। তাদের রাখাইন রাণী ইয়ান ইয়ান সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্টারন্যাশনাল উইমেন পিএস বিল্ডিং অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার পেয়েছেন। পাহাড়ের যেকোনো নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সোচ্চার‌। তবে তিনি সেই সব অভিযোগ নিয়ে সোচ্চার হন যেখানে অভিযুক্ত হিসেবে বাঙালি ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আঙুল তোলা হয়।

কিন্তু তার বাড়ির পাশে, তারই প্রজা পূর্ণিমা চাকমা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে চাকমা রাজার রাখাইন বউ ইয়ান ইয়ান কে খুঁজে পাওয়া যায়নি। খুঁজে পাওয়া যায়নি বাসন্তি চাকমা, বাঞ্ছিতা দেওয়ান, নিরুপা দেওয়ান, সুস্মিতা চাকমা, ডলি প্রু চৌধুরীর মত মানবাধিকার নেত্রী দের। ফলে বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদছে আজ। বক্তরা জোর দাবী জানিয়ে বলেন, পূর্ণিমা চাকমার লাশের সঠিক ময়নাতদন্ত করে, সত্য ঘটনা উন্মোচন করার জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি। সে সাথে বাসার মালিক ধর্ষক ও হত্যাকারী জড়িত জেএসএস সন্তু সন্ত্রাসীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।