রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দিলেন মাহমুদা


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০২:৪৩ পিএম, ২০২১-০৮-২৮

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দিলেন মাহমুদা

রাঙামাটি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দিয়েছেন ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সোয়াতে অংশগ্রহণকারী নারী কমান্ডার মাহমুদা বেগম। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করে সম্প্র্রতি দেশে ফেরেন বাংলাদেশ পুলিশের উর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা।

আজ ২৫ আগস্ট, বুধবার সকালে রাঙামাটি জেলা পুলিশের সদর দপ্তরের যোগ দেন তিনি। এসময় পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাচ্ছের হোসেন রাঙামাটি জেলা পুলিশের নতুন এই সদস্যকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন মাহমুদা বেগম নিজেই। তিনি বলেন, নতুন পথথচলা শুরু হলো, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

এর আগে গত ৯ আগস্ট, সোমবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজির আহমেদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে রাঙামাটি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন হয় মাহমুদা বেগমের।

২৮তম বিসিএসের পুলিশের এই কর্মকর্তা ২০১০ সালে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদেন বাংলাদেশ পুলিশে। পরে প্রশিক্ষণ শেষ শিক্ষানবীশ হিসেবে যোগদান করেন সিলেট জেলা পুলিশে।

পরবতীর্তে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সিএমপিতে দায়িত্ব পালন করেছেন সহকারী কমিশনার সদর ও ট্রাফিক হিসেবে। সিএমপিতে থাকাকালীন ২০১৩ সালে আমেরিকার ভার্জিনিয়াতে সোয়াত প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহণ করা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নারী পুলিশ কর্মকর্তা তিনি। সিএমপিতে থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালে জাতিসংঘ মিশনে যান মাহমুদা। মিশনে থাকাকালীন একই বছর পদোন্নতি পেয়ে হন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। সেখান থেকে ফিরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদেন চট্টগ্রাম রেঞ্জে।

উল্লেখ্য, সিএমপিতে দায়িত্বরত অবস্থায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে কাজ করার সুযোগ পান মাহমুদা বেগম। তৎকালীন  ১১ বছর বয়সী একজন ভারতীয় শিশু কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশে চলে আসে।  সেই সময় শিশুটি শুধু নিজের দেশের নাম ভারত ছাড়া আর কোনো তথ্য দিতে পারেনি। মাহমুদা বেগম ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সহায়তায় অসহায় ভারতীয় শিশুটি যত্নসহকারে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে প্রশংসিত হন। এছাড়াও নিয়মিত বাজার মনিটরিং করে ফরমালিনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে এক সাহসী অবদান রাখেন তিনি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সসহ মাস্টার্স সম্পন্ন করা এ নারী ব্যক্তি জীবনে এক সন্তানের মা। স্বামী গণমাধ্যমকমীর্। কুমিল্লার তিতাসে পৈতৃক বাড়ি হলেও বাবার চাকরী সূত্রে জন্ম চট্টগ্রামে। বাবা এ এফ এম জাহেদুল ইসলাম সাবেক সরকারি কর্মকর্তা।