লকডাউনে কিস্তি আদায়ে ব্যস্ত এনজিওকর্মীরা!


এম এইচ ইকবাল    |    ১১:০৯ পিএম, ২০২১-০৭-০২

লকডাউনে কিস্তি আদায়ে ব্যস্ত এনজিওকর্মীরা!

ঘরে ভাত নাই, কোন দিকে কাম নাই, কাম না থাকলে সমিতির টাকা দিমু কেমনে,এহনো সমিতির স্যারেরা টাকার জন্য জোড় করে। এমনটা বলছিলেন ক্ষুদ্রঋণ এনজিও থেকে ঋণ গ্রহিতা সালেহা বেগম।

এদিকে চোখে পানি মুছতে মুছতে রহিমা বেগম জানালেন, তার স্বামী চট্টগ্রামে একটি প্রতিষ্ঠানে দৈনিক বেতনের কাজ করেন।কিন্তু লকডাউনে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকাতে খুব কষ্ট জীবন যাপন করছেন। এমন অবস্থাতে এনজিওকর্মীরা ঋণের কিস্তির জন্য চাপ দিচ্ছে। এদিক সেদিক থেকে ধারদেনা করে টাকা দিতে হচ্ছে।আমরা টাকা মেরে দিবোনা আমরা দিয়ে দিবো শুধু কয়টা দিন সময় দিতে আকুতি মিনতি করে প্রতিবেদক কে জানাচ্ছিন এই ঋণ গ্রহীতা।

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলাতে বিভিন্ন এনজিওকর্মীরা লকডাউনের মধ্যে সরকারী নির্দেশনা না মেনে কিস্তি আদায় করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে । ফলে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের ঋণগ্রহীতারা। ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ছোটখাটো বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা ঋণ নিয়ে তাদের ব্যবসার কার্যক্রম চালান। এ ছাড়াও অনেকে এনজিও থেকে সাপ্তাহিক কিস্তিতে ঋণ নিয়ে ইজিবাইক,, ভ্যান, ছোট চা দোকান, তরকারী ব্যবসা সহ বিভিন্ন যানবাহন কিনে চালিয়ে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা করে  আয় করে জীবিকা নির্বাহ করেন ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেন।কিন্তু করোনার এই মহামারীতে দেশে লাগাতার সরকারের ঘোষিত লকডাউনের ফলে নিম্ম আয়ের মানুষের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়াতে বিপাকে পড়েছেন তারা।

 

সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, কাউখালী উপজেলাতে  ছয়টির ও অধিক  এনজিও কার্যক্রম চলছে। আর তাদের কর্মীরা উপজেলার  প্রতিটা গ্রামে গ্রুপ করে অধিকাংশ এনজিও বিবাহিত নারীদের সমিতির মাধ্যমে ঋণ দিয়ে থাকে। অনেক এনজিও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পুরুষদের ও দিচ্ছে তবে তার সংখ্যাটা তুলনামূলক কম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এনজিও কর্মী জানান, পুরুষদের থেকেও নারীদের থেকে কিস্তি আধায় করতে সহজ হওয়াতে তারা নারীদের বেশি ঋণ দিয়ে থাকেন।

আর নারী এনজিও কর্মীরা বাসায় গিয়ে হলেও কিস্তি পরিশোধ করতে বাধ্য করতে পারেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাচলের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও এনজিওকর্মীরা ঋণগ্রহীতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিস্তির টাকা আদায় করছেন। কোনো কোনো এনজিওরকর্মীরা অফিসের বিকাশ নাম্বার ঋণ গ্রহীতাকে দিয়ে আসছেন এবং বলে আসছেন দ্রূত সময় যাতে বিকাশে পরিশোধ করা হয়।

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, সরকারী ভাবে এনজিও কিস্তি আদায়ের বিষয় কড়াকড়ি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করোনা মহামারীতে লকডাউন চলা অবস্থাতে কোন প্রকার জবরদস্তি করে কিস্তি আদায় করা যাবেনা। যারা নিজ থেকে পরিশোধ করতে পারবে  তাদের ক্ষেত্রেও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে জোর করে কিস্তি আধায় করছে এমন অভিযোগ যদি কোন এনজিওর বিরুদ্ধে পাওয়া যায় তবে আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।