মোটর মালিক সমিতি রাঙামাটিবাসীর কাঙ্খিত আশা দীর্ঘ বছরেও পুরণ করতে পারেনিঃঅংসুই প্রু


আইয়ুব চৌধুরী    |    ০১:২০ এএম, ২০২১-০১-১০

মোটর মালিক সমিতি রাঙামাটিবাসীর কাঙ্খিত আশা দীর্ঘ বছরেও পুরণ করতে পারেনিঃঅংসুই প্রু

চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি রাঙামাটিবাসীর কাঙ্খিত আশা দীর্ঘ বছরেও পুরণ করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী। তিনি বলেন, রাঙ্গামাটির সাধারণ যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে লক্কর ঝক্কর মার্কা গাড়ীতে চড়ে নিজেদের প্রয়োজন মেটাচ্ছে। মোটর মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ব্যবসার কথা চিন্তা করলেও যাত্রী সেবা নিয়ে তারা কখনোই চিন্তা করেনি। তিনি বলেন, রাঙ্গামাটির শতভাগ যাত্রীর মধ্যে ২০ শতাংশ মানুষ নিজের গাড়ী ও অন্যান্য ভাবে চলাচল করে। কিন্তু ৮০ ভাগ মানুষ বাসের যাত্রী হিসাবে চলাচল করার কারণে প্রতিনিয়ত হেনস্তার শিকার হচ্ছে। 

যাত্রীসেবা নিশ্চিতে মান-সম্মত দূরপাল্লার নন-এসি বাস সার্ভিস রাঙ্গামাটি টু ঢাকা- আব্দুল্লাহপুর ও ময়মনসিংহ রিলাক্স পরিবহনের শুভ উদ্বোধন করতে গিয়ে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসু প্রু চৌধুরী এ করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মটর মালিক সমিতির সভাপতি ও অত্র বাস সার্ভিসের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ হোসেন কোম্পানির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসু প্রু চৌধুরী। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে রাঙ্গমাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর, দৈনিক গিরিদর্পণ সম্পাদক এ কে এম মকছুদ আহমেদ, প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াৎ হোসেন রুবেল, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান মহসীন রোমানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বাস মালিক সমিতির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, সাধারণ যাত্রীরা কতো যে অসহায় তা চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। তিনি বলেন, একটি সময় গাড়ী গুলোতে কলা বোঝাই, মাছের টুকুরী সহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পরিবহনে চলাচল করতে হতো সাধারণ যাত্রীদের। তিনি বলেন, এ ভাবে কখনোই একটি সংস্থা চলতে পারে না। সকল যাত্রীদের আরামদায়ক সুযোগ সুবিধা দিয়ে তাদের গন্তব্যে পৌছে দেয়াটাই হচ্ছে একটি পরিবহন সংস্থার মুল দায়িত্ব। তিনি পরিবহন সংস্থার মালিক গুলোকে ব্যবসায়ী ভিত্তিতে নয় সেবার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানান। 

সভায় বক্তারা বলেন, প্রতিদিন রাত  সাড়ে ৮টায় রাঙামাটি থেকে ২টি রিলাক্স পরিবহন ঢাকা হয়ে আব্দুল্লাহপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। আবার পুনরায় একই সময়ে ঢাকা আব্দুল্লাহপুর হতে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে আরেকটি বাস আসা-যাওয়া করবে। বাসের অগ্রীম টিকিট সংগ্রহের সুযোগও থাকবে। 

বর্তমানে রাঙামাটির প্রত্যেকটি রাঙামাটি টু চট্টগ্রাম পাহাড়িকা বাস সার্ভিসের সকল টিকেট কাউন্টারে রিলাক্স পরিবহনের টিকেট কাটা ও বুকিং দেওয়া যাবে। অন্যদিকে রাঙ্গামাটি টু ময়মনসিংহ ১টি বাস সার্ভিসটি অতিদ্রুত আসা যাওয়ার জন্য পদক্ষেপ ও এসি বাস সার্ভিস চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সভায় জানানো হয়।
শহরের যাত্রীরা জানান, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বাস সার্ভিস ৩টি অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও ঝুঁকিবিহীণ হবে বলে আমরা আশাবাদী। দায়িত্বশীলগণ ন্যায়নীতির ভিত্তিতে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করলে অবশ্যই লাভবান হবেন বাস মালিকরা।