শেখ হাসিনার কারণে পার্বত্যাঞ্চল সম্প্রীতিময় মৈত্রী অঞ্চলে পরিণত হয়েছে: বীর বাহাদুর


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৪:৫৫ এএম, ২০২১-০১-১৬

শেখ হাসিনার কারণে পার্বত্যাঞ্চল সম্প্রীতিময় মৈত্রী অঞ্চলে পরিণত হয়েছে: বীর বাহাদুর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেছেন,পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘাত নয়, উন্নয়ন চাই। এ লক্ষ্যে সবাইকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। পার্বত্যাঞ্চল এখন আর পার্বত্যাঞ্চল নেই, এটা সম্প্রতি মৈত্রীময় অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাঙামাটি চিংহ্লামং মারী স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু অ্যাডেভঞ্চার উৎসব ২০২১ এর পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এরআগে মন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার পরিবারবর্গ এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

পার্বত্যমন্ত্রী আরও বলেন, খেলাধুলায় অংশ নিতে ছোটছোট ছেলে মেয়েরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে চলে এসেছে। এটাই সম্প্রীতির পার্বত্যাঞ্চল। শেখ হাসিনার কারণে পার্বত্যাঞ্চল মৈত্রী অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। যারা আজ খেলায় অংশ নিয়েছে তারা পার্বত্যাঞ্চলের দূতের ভূমিকা রাখবে। পার্বত্যাঞ্চলের সম্প্রীতির বন্ধন চারিদিকে ছড়িয়ে দেবে।

মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পাহাড়ে শান্তির বারতা পৌঁছেছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ও পিছিয়ে নেই। পাহাড়ের বাসিন্দাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটছে। দেশের উন্নয়নে তরুণরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরুণদের মধ্যে সাহস ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে এ অ্যাডভেঞ্চারের মূল উদ্দেশ্য। বঙ্গবন্ধুর ডাকে যেভাবে তরুণরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো, তেমনি দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্ধৃতি টেনে মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড তার কার্যক্রমের মাধ্যমে সফল হয়েছে। বোর্ডের মাধ্যমে সরকার ৪০ হাজার সোলার বিতরণ করবে। এর মধ্যে ১১ হাজার সোলার বিতরণ করা হয়েছে। যাতে পাহাড়ের দুর্গম মানুষ অন্ধকারাছন্ন না থাকে। মন্ত্রী আরও বলেন, পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে সরকার উন্নত শিক্ষা গ্রহণ করতে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করেছে। শান্তি, মৈত্রী, সম্প্রীতি থাকলে আমাদের অঞ্চল এগিয়ে যাবে, আমাদের সন্তানরা এগিয়ে যাবে। আমরা সংঘাত চাই না, মৈত্রী চাই।

প্রতিযোগীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষায় নয়, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবো। দেশের জন্য, সমাজের জন্য সম্পদে পরিণত হবো। লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই।এসময় মন্ত্রী প্রতিযোগীদের খাবারের জন্য এক লাখ টাকা, আয়োজকদের জন্য দুই লাখ ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনকারীদের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা দেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার (এনডিসি) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল আলম নিজামী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী, তথ্য কমিশনের সচিব সুদত্ত চাকমা, জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছ্ছের হোসেন।

অনুভূতি ব্যক্ত করেন- প্রতিযোগী রাঙামাটির মেয়ে মুন দেওয়ান, বরিশাল থেকে আগত তৌহিদুল ইসলাম, বান্দরবানের জেরিৎ বম, নওগাঁ থেকে ওয়াহিদা বিনতে রোকন। অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়। এরপর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।