সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ২ মামলায় ক্র্যাব, আইএফজে ও বিএমএসএফ-এর নিন্দা


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০২:৪৮ এএম, ২০২৬-১০-০৪

সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ২ মামলায় ক্র্যাব, আইএফজে ও বিএমএসএফ-এর নিন্দা

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)-এর স্থায়ী সদস্য, সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক গবেষক মো. আবুল হোসেন ওরফে এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় দুটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের এবং হয়রানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক একাধিক সাংবাদিক সংগঠন।

সম্প্রতি জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট খাগড়াছড়ি সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হলেও তা গোপন রাখা হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে গোপনে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মনে করে, কোনো ব্যক্তিকে ফৌজদারি মামলায় আসামি করার ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে যথাযথ যাচাই থাকা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দপ্তর সম্পাদক ইসমাঈল হুসাইন ইমু স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির ঘটনায় ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ যৌথ বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা জানান। কোনো পেশাদার সাংবাদিকের ওপর যেকোনো ধরনের হয়রানি ক্র্যাব মেনে নেবে না উল্লেখ করে অবিলম্বে এসব হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

মামলাগুলোর বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি সদর থানায় দায়েরকৃত ১টি তথ্য প্রযুক্তি আইনে এবং ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য এম এন আবছার (মামলা নং- ১৭, তারিখ- ৩০/০৮/২০২৬)। তথ্য প্রযুক্তি আইনে আরেকটি মামলা করেছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস হিসেবে পরিচিত প্রফুল্ল ময় দত্ত ওরফে এইচ এম প্রফুল্ল (মামলা নং- ১৮, তারিখ- ৩০/০৮/২০২৬)।

অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিক ও কলামিস্ট এ এইচ এম ফারুক জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সাংবাদিকতায় যুক্ত। বর্তমানে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা, রোহিঙ্গা ক্রাইসিস ও ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত বিষয়ে গবেষণা করছেন এবং নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে উপসম্পাদকীয় লেখার পাশাপাশি টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সোচ্চার রয়েছেন।

তিনি বলেন, "সাম্প্রতিক সময়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বঞ্চিত করে রহস্যজনকভাবে দলের কেউ নন এমন একাধিক ব্যক্তিদের চেয়ারম্যান ও সদস্য করা হয়েছে। বিশেষ করে পরিষদের ৩য় শ্রেণির চাকরিরত একজনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়েছে। তাছাড়া ইউপিডিএফ কানেক্টেড এবং অন্য দলের কমিটিতে ছিল এমন একাধিক ব্যক্তিকেও সদস্য করা হয়েছে। এসব বিষয়ে লেখালেখি ও প্রতিবাদ জানানোর কারণে রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার এবং প্রফুল্ল নামের ব্যক্তি মিথ্যা চাঁদা দাবি ও আইসিটি আইনে এসব মামলা করেছেন। তারা প্রভাব বিস্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছেন এবং আমার ও পরিবারের ফোন ট্র্যাকিং করছেন।"

উল্লেখ্য, এ এইচ এম ফারুক দৈনিক ইনকিলাব, আলোকিত বাংলাদেশ, বাংলা টিভি, দৈনিক বাংলাদেশের খবর ও পরিবর্তন ডটকম এবং মানবাধিকার খবরের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ফ্রিল্যান্সিং হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপসম্পাদকীয় ও কলাম লিখছেন।

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় অন্যান্য সংগঠনের বিবৃতি:

এর আগে, আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ফেডারেশন (IFJ) এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম (BMSF) এক যৌথ বিবৃতিতে এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও আক্রোশমূলক মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে তারা উল্লেখ করে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে দমনে আইনের অপব্যবহার স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত।

সংগঠনগুলো সরকারের কাছে ৩টি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছে:

১. মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার: সাংবাদিক মো. আবুল হোসেন ওরফে এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা ও সাজানো মামলা বিনাশর্তে প্রত্যাহার করতে হবে।

২. হয়রানি ও ফোন ট্র্যাকিং বন্ধ: সাংবাদিক ও তার পরিবারের ওপর চলমান সকল প্রকার ফোন ট্র্যাকিং, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

৩. বাকস্বাধীনতার সুরক্ষা: সাংবাদিকরা যেন কোনো প্রকার আইনি অপব্যবহারের শিকার না হয়ে তাদের মৌলিক অধিকার ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চালিয়ে যেতে পারেন, তার পূর্ণ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।