কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় হ্রদে অতিরিক্ত কচুরিপানা: নৌ চলাচল বন্ধ


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৮:০১ পিএম, ২০২৩-০৮-১০

কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকায় হ্রদে অতিরিক্ত কচুরিপানা: নৌ চলাচল বন্ধ

কাপ্তাই জেটিঘাট এলাকার হ্রদে অতিরিক্ত কচুরিপানার কারণে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কাপ্তাই-বিলাইছড়ি লাইনে ইঞ্জিন চালিত বোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারো মানুষ। কচুরিপানা জঞ্জাল অপসারণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবী জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) সকালে কাপ্তাই উপজেলার ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র আপষ্ট্রিম জেটিঘাট এলাকা সংলগ্ন কাপ্তাই হ্রদে গিয়ে এই দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। গত এক সপ্তাহ যাবৎ কাপ্তাই হ্রদে লাগাতার বৃষ্টির ফলে চারদিক হতে ছুটে আসে কচুরিপানা। লেকের বিভিন্ন এলাকা হতে কচুরিপানা এসে জেটিঘাট ব্যবসায়ী কেন্দ্র, কার্গো, জেলে পাড়া, সমিলসহ এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। যার ফলে কাপ্তাই-বিলাইছড়ি উপজেলা নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোন নৌ-চালাচল করতে না পাড়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ পড়েছে এই ঘাট দিয়ে চলাচলকারী শত শত সাধারণ যাত্রী এবং বোট চালকরা। কাপ্তাই জেটিঘাট পল্টুন সংলগ্ন ১ কি: মি: এলাকা জুড়ে কাপ্তাই হ্রদে কচুরিপানার বিশাল বহর। মাত্র  ৫ মিনিটের  জায়গায় পৌঁছাতে সময় লাগছে প্রায় ঘন্টার উপর। যার ফলে মঙ্গলবার (৮ আগষ্ট) হতে কাপ্তাই-বিলাইছড়ি লাইনে ইঞ্জিন চালিত বোট চলাচল বন্ধ রয়েছে।  বোট মালিক সমিতির লাইনম্যান শীতল সরকার জানান, বুধবার (৯ আগস্ট) সকাল ৯টা হতে ১২টা পর্যন্ত একটি ইঞ্জিন চালিত বোট জেটিঘাট হতে বিলাইছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলেই মাঝ পথে কচুরিপানার জঞ্জালে আটকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পল্টুনে ফিরে আসতে হয় বোটটি।  কাপ্তাই জেটিঘাট মৎস্য চাষী মো: ইউনুস জানান, বিগত ১ সপ্তাহ যাবৎ কাপ্তাই হ্রদ এবং এর আশেপাশে লাগাতার বৃষ্টির ফলে পাহাড়ী ঢলের সাথে চারদিক হতে ছুটে আসে কচুরিপানার জঞ্জাল। হ্রদের বিভিন্ন এলাকা হতে কচুরিপানা এসে জেটিঘাট পল্টুন, কার্গো এলাকা, জেলে পাড়া, স'মিল, কাপ্তাই বাঁধ, শহীদ শামসুদ্দিন ঘাটসহ জেটিঘাটের আশেপাশে এলাকায় এসে কচুরিপানার জঞ্জাল সৃষ্টি হয়। যার ফলে কাপ্তাই-বিলাইছড়ি উপজেলা নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কোন নৌ চলাচল করতে না পাড়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ পড়ছে সাধারন লোকজন।
মৌসুমী ব্যবসায়ী কালাম ও কনা তনচংগ্যা জানান, বিশাল কচুরিপানা জটের ফলে পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকা হতে উৎপাদিত ফসল কৃষকরা বাজারে আনতে পারছে না। এতে করে তারা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়া বিশাল কচুরিপানা যানজটের ফলে সকল ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধের পথে।
কাপ্তাই উপজেলার ৪নং কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ জানান, কচুরিপানা জটের ফলে এলাকার সর্বস্তরের লোকজনের ক্ষতি হচ্ছে। ইতিমধ্যে একটি পরিবার হ্রদে আটকে পড়ায় বহু কষ্ট করে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যবস্থাপকের সাথে যোগাযোগ রাখছি হ্রদ হতে কচুরিপানা অপসারণের জন্য। ইতিমধ্যে পিডিবি কর্তৃপক্ষ  কিছু কচুরিপানা  অপসারণ করেছেন। সামনে আরোও কিছু অপসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, রাঙ্গামাটি সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এমপি কাপ্তাই  কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পীলওয়ে পরিদর্শন করেন এবং কাপ্তাই হ্রদে কচুরিপানার কারনে সৃষ্ট মানুষের চলমান সমস্যা পর্যবেক্ষণ করেন। পরে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপকের অফিস কক্ষে কচুরিপানা কিভাবে নিরসন করা যায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করেন। 
এসময় ৫৬ ইবি, কাপ্তাই জোন এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ নূর উল্লাহ জুয়েল, পিএসসি, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সদস্য অংসুইছাইন চৌধুরী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এ, টি, এম আব্দুজ্জাহের, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ নাসির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।