পাহাড়ে প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে ওঠা পাহাড়ী গরুর চাহিদা বেশী


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৭:৫১ পিএম, ২০২৩-০৬-২৮

পাহাড়ে প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে ওঠা পাহাড়ী গরুর চাহিদা বেশী

রাঙ্গামাটিতে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পশু কেনা কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছে রাঙ্গামাটির মানুষ। রাঙ্গামাটি ট্রাক টার্মিনালে সব চেয়ে বড় কোরবারনীর পশুর হাট জমে উঠেছে। ক-দিন ধরে হাটে চলছে কোরবানি পশুর বেচা-বিক্রি। হাট জুড়ে নদী পথে দূরদূরান্ত থেকে আসা পাহাড়ি এলাকার পশুতে ভরপুর। ক্রেতা-বিক্রেতা আর পশুর গাদাগাদিতে ঈদের আমেজে মেতে উঠেছে রাঙ্গামাটি কোরবানি পশুর হাট। 
আর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরুর ফার্মের গরু হওয়ায় পাহাড়ী গরু চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। পাহাড়ী এলাকায় প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠা কোরবানির পশুর কদর একটু বেশি। আর রাঙ্গামাটির কোরবানীর পশুর হাটে ক্রেতার ভীড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। তবে গতবারের তুলনায় দাম একটু বেশী হওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে ক্রেতারা।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পবিত্র ঈদুল আযহায় পশু কোরবানীকে সামনে রেখে শেষ মুহুর্তে রাঙ্গামাটি ট্রাক টার্মিনালে সব চেয়ে বড় কোরবারনীর পশুর হাট জমে উঠেছে। রাঙ্গামাটির এই হাটে জেলার বিভিন্ন উপজেলা হতে আনা হচ্ছে পাহাড়ে বেড়ে ওঠা গরু ও ছাগল। দেশীয় ও পাহাড়ী গরুর চাহিদা হওয়ায় ব্যাপারীরা পশুগুলো ক্রয় করে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
হাটে নিয়ে আসা গরু বিক্রেতারা আব্বাস উদ্দিন জানান, কিছু গরু হাটে নিয়ে এসেছি। তবে সকল প্রকার পশু খাদ্য বেড়ে যাওযায় এবং পাহাড়ের গুরুর চাহিদা বেশী হওয়ায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে বেশী দামে পশু কিনতে হচ্ছে তাই দাম একটু বেশী।
হাটে আসা ক্রেতা মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, রাঙ্গামাটিতে পর্যাপ্ত পরিমান কোরবানির পশু থাকলেও সিন্ডিকেটে বাড়তি দাম হাঁকানো হচ্ছে। এছাড়া শুরু থেকে ট্রাক ভর্তি করে রাঙ্গামাটির বাইরে নিয়ে যাচ্ছে কোরবানির পশু, এতে বাড়তি দাম নিতে হচ্ছে রাঙ্গামাটির স্থানীয়দের। এতে করে তারা অধিক টাকা গুনতে হচ্ছে।
ইজারাদার রুহুল আমিন জানান, দাম বেশী হলেও ক্রেতারা পছন্দ মতো পশু কিনতে পারছে। বাজারে প্রচুর গরু রয়েছে দেখে শুনে নিতে পারবে। বিশেষ করে পাহাড়ী এলাকা থেকে নদী পথে প্রচুর গরু ও ছাগল নিয়ে এসেছে পাহাড়ীরা। আর হাটের নিরাপত্তায় জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।  
রাঙ্গামাটি প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর কর্মকর্তা ডা. বরুণ কুমার দত্ত জানান, কোরবানী ঈদকে ঘিরে রাঙ্গামাটি প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর কোরবানি হাটে পশুর স্বাস্থ্য গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করতে রাখা হয়েছে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম। 
রাঙ্গামাটি কতোয়ালী থানার এস আই আরিফ জানান, রাঙ্গামাটি কোরবানি পশুর হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য তিন স্তরের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। আর হাটে জালনোট সনাক্তে কন্টোল রুম খোলা হয়েছে।
এবার রাঙ্গামাটি জেলায় কোরবানির পশু সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। বিশাল এই টার্মিনালে জায়গা না হওযায় বিভিন্ন গ্রাম থেকে এসে পাহাড়ীরা তাদের বোটে রেখেই গরু বিক্রি করতে দেখা গেছে। জেলার বাহিরের কোরবানির পশু না নিয়ে গেলে স্থানীয়দের চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।