ক্যামেরার চোখে রাঙামাটি শহর, অপরাধ-অসঙ্গতি শনাক্তে পুলিশের বিশেষ নজরদারি


আলমগীর মানিক    |    ১২:১৬ পিএম, ২০২৬-০৯-১৯

ক্যামেরার চোখে রাঙামাটি শহর, অপরাধ-অসঙ্গতি শনাক্তে পুলিশের বিশেষ নজরদারি

একদিকে পর্যটকের ভিড়, অন্যদিকে ব্যস্ত সড়ক ও বাণিজ্যিক এলাকায় নানা ধরনের অপরাধের ঝুঁকি; এমন বাস্তবতায় এবার ক্যামেরার চোখে আসছে রাঙামাটি শহর।

সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, যান চলাচল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে রাঙামাটি জেলা পুলিশ।

এর প্রথম ধাপে শহরের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা বনরূপায় শুক্রবার বসানো হয়েছে আটটি সিসিটিভি ক্যামেরা।

শুধু ক্যামেরা বসিয়েই থেমে থাকছে না পুলিশ। এসব ক্যামেরার ফুটেজ সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য পুলিশের একটি বিশেষ টিম দায়িত্বে থাকবে।

কোথাও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা সড়কে কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়লে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছাতে প্রস্তুত থাকবে পুলিশের একটি মোবাইল টিম।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম প্রতিবেদক আলমগীর মানিককে জানান, রাঙামাটি দেশের অন্যতম পর্যটন শহর।

প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক ও দর্শনার্থীরা এখানে আসেন।

তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা ও সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে শহরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা বনরূপায় আমরা প্রাথমিকভাবে আটটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছি।

ক্রমান্বয়ে আমরা পুরো শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ক্যামেরা বসাবো। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।

কোনো ক্যামেরায় অসঙ্গতি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ধরা পড়লে সেটিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পুলিশের এই উদ্যোগে বনরূপার মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় নিরাপত্তা নজরদারির নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহনের চলাচল করা এ এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মারামারি, বিশৃঙ্খলা, যানজট কিংবা দুর্ঘটনার মতো ঘটনা ঘটলে সিসিটিভির ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

বিশেষ করে কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর প্রত্যক্ষদর্শী বা মৌখিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সময়, স্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গতিবিধি শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

এতে অপরাধ তদন্তেও পুলিশের সক্ষমতা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বলছেন, বনরূপা রাঙামাটি শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। দিনের অধিকাংশ সময় এখানে মানুষের পাশাপাশি যানবাহনের চাপ থাকে।

ফলে পুলিশের সরাসরি উপস্থিতির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি চালু হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বনরূপায় আটটি ক্যামেরা স্থাপনের পর এই কার্যক্রম যেন শুধু একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ না থাকে।

পর্যায়ক্রমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার, নৌঘাট, পর্যটনকেন্দ্র, প্রবেশপথ ও ব্যস্ত সড়কগুলোও সিসিটিভির আওতায় আনা হবে; এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে পুরো শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সমন্বিত নজরদারি গড়ে উঠতে পারে।

রাঙামাটি পাহাড়, হ্রদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। ছুটির দিন ছাড়াও সারা বছরই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন।

ফলে পর্যটনবান্ধব পরিবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে নিরাপদ সড়ক, শৃঙ্খলিত যান চলাচল এবং জননিরাপত্তাকে দেখছেন স্থানীয়রা।

জেলা পুলিশের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রাঙামাটি শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ল।

এখন নজর থাকবে ক্যামেরায় ধরা পড়া অপরাধ বা অসঙ্গতিতে পুলিশের প্রতিক্রিয়া কতটা দ্রুত এবং কার্যকর হয়।