রাজস্থলীতে মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেট বিতরণ


আজগর আলী খান    |    ০৮:৪১ পিএম, ২০২৬-০৯-১৭

রাজস্থলীতে মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেট বিতরণ

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে নিরাপদ মাতৃসেবা নিশ্চিত করা, নারীদের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৮ বীর রণজয়ী কাপ্তাই জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রাজস্থলী সাব জোনের উদ্যোগে আয়োজিত মিডওয়াইফ নার্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজস্থলী উপজেলা হাসপাতালে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন রাজস্থলী সাব জোনের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন সাহাদাৎ হোসেন।

জানা যায়, কাপ্তাই ৩৮ বীর জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয় গত ২ সেপ্টেম্বর।

প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণে মোট ২০ জন নারী অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজকরা জানান, স্থানীয় নারীদের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য এলাকায় মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি হলে গর্ভবতী মা ও নবজাতকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

প্রশিক্ষণ চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ মাতৃত্ব, গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন সেবা, প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যা, নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ে প্রয়োজনীয় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

এ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা।

তারা প্রশিক্ষণার্থীদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন, যাতে ভবিষ্যতে নিজ নিজ এলাকায় মাতৃস্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের অনেক নারী এখনো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হন।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব নারী ভবিষ্যতে নিজ নিজ এলাকায় মাতৃস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ প্রসব নিশ্চিতকরণ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সুবিধাভোগীরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এমন মানবিক ও উন্নয়নমুখী উদ্যোগের প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কাপ্তাই জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল কাদির শুভ, পিএসসি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ভবিষ্যতেও স্থানীয় জনগণের কল্যাণে এ ধরনের জনমুখী ও মানবিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাম্প জেসিও সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মিজানুর রহমান, ডা. সাইফুল ইসলাম, ডা. জিয়াউদ্দিন, ডা. মোশারফ হোসেন এবং নার্স ছালমা আক্তার।