আজ মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ০২:৪০ এএম, ২০২৬-০৮-১৫

আজ মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী আজ। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশের বিভিন্ন স্থানে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি। তবে খালেদা জিয়া গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর মারা যাওয়ায় এবারের জন্মবার্ষিকীটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের যথাযোগ্য মর্যাদায় কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কর্মসূচির কথা জানানো হয়।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সংকটময় অধ্যায় ছিল ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের পরের সময়। সে সময় সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি হন। একই সময়ে তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমান ও ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধেও মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।

তবে ওই সময় তাঁদের ওপর নির্যাতন, হত্যাচেষ্টা কিংবা দেশত্যাগে বাধ্য করার মতো যেসব অভিযোগ বিএনপি ও দলটির নেতারা করে আসছেন, সেগুলো রাজনৈতিক অভিযোগ ও দলীয় বর্ণনার অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ঢাকার একটি বিশেষ আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায়ের পর তাঁকে পুরান ঢাকার কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত তাঁর সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে। একই বছর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাতেও তাঁর সাত বছরের কারাদণ্ড হয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে কারাগার থেকে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। ওই আদেশে তাঁকে গুলশানের বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়া এবং দেশত্যাগ না করার শর্ত দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফায় তাঁর মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিল, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে এ সময় তিনি দেশে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিন, ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আদেশে খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ মুক্তি পান। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাঁর দণ্ড মওকুফ করে মুক্তির আদেশ দেন।

মুক্তির পরও দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। চিকিৎসার জন্য তিনি একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হন। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী একটি অবস্থান তৈরি করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি একাধিকবার সরকার গঠন করে। দলটির নেতাদের কাছে তিনি গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও দলীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান প্রতীক।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে সামনে রেখে বিএনপি এখনো তাঁর নেতৃত্ব, রাজনৈতিক অবস্থান ও দলীয় দর্শনের কথা তুলে ধরে আসছে। তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানও দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন এবং খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এগিয়ে নেওয়ার কথা বলে আসছেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এবারের জন্মবার্ষিকীকে ঘিরে বিএনপির কর্মসূচিতে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, দল ও দেশের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা স্মরণ করা হচ্ছে। শনিবারের দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে দলীয়ভাবে তাঁর জন্মদিন পালনের কর্মসূচি শেষ হবে।