সড়কে বন্য হাতির পাল, বন বিভাগের তৎপরতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা


মেহেদী হাসান    |    ১২:৩৪ এএম, ২০২৬-০৮-১৪

সড়কে বন্য হাতির পাল, বন বিভাগের তৎপরতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

রাঙামাটির কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কের আগর বাগান এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে বন্য হাতির একটি পাল অবস্থান করায় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

এ সময় বন বিভাগের তৎপরতায় দ্রুত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হলে সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান সড়কে চলাচলকারী বহু যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কের আগর বাগান এলাকায় সড়কের ওপর ও আশপাশে বন্য হাতির একটি দল অবস্থান নেয়।

হঠাৎ সড়কের ওপর হাতির পাল দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।

পরে বিষয়টি দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জে জানানো হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বন বিভাগের কর্মী ও হাতি প্রতিরোধকারী দলের সদস্যরা।

কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমানের নেতৃত্বে বন বিভাগের সদস্যরা হাতির পালটিকে সড়ক থেকে সরিয়ে বনের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় আতশবাজি, ফাঁকা গুলির শব্দ ও গাড়ির হর্ন ব্যবহার করে হাতিগুলোকে ধীরে ধীরে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই কাপ্তাইয়ের প্রবেশমুখে আবারও একটি বন্য হাতি সড়কের ওপর উঠে আসে।

ওই সময় রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং হাতিটির সামনে পড়েন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে বন বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মী ও হাতি প্রতিরোধকারী দলের সদস্যরা দ্রুত সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

ফলে হাতিটি সড়কে অবস্থান করলেও যানবাহন ও যাত্রীদের নিরাপদ দূরত্বে রাখা সম্ভব হয়।

বন বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে সম্ভাব্য হাতির আক্রমণ ও বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ জানান, রাঙামাটি থেকে কাপ্তাই আসার পথে তিনি হঠাৎ সড়কের ওপর একটি হাতি দেখতে পান।

এ অবস্থায় সন্ধ্যার পর ওই সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান ও বরকল রেঞ্জ কর্মকর্তা ওমর ফারুক স্বাধীন বলেন, সন্ধ্যার পর কাপ্তাই-রাঙামাটি সড়কের বিভিন্ন অংশে বন্য হাতির চলাচল থাকতে পারে।

তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথে চলাচল না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম সাজ্জাদ হোসেনও সন্ধ্যার পর ওই সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বন্য হাতি সড়কে উঠে এলে কোনোভাবেই কাছে যাওয়া বা উত্তেজিত করার চেষ্টা করা উচিত নয়।

নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বন বিভাগের সদস্যদের সহযোগিতা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।