শুকনো মৌসুমে তীব্রতর মায়ানমার সংঘাত: কারেন্নি ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের ঘাঁটি দখলের অভিযান


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০২:২৬ এএম, ২০২৬-০২-২৬

শুকনো মৌসুমে তীব্রতর মায়ানমার সংঘাত: কারেন্নি ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের ঘাঁটি দখলের অভিযান

মায়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধে নতুন করে তীব্রতা দেখা দিয়েছে। দেশটির কারেন্নি (কারেনি) অঞ্চলে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেন্নি ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (KNDF) সম্প্রতি মায়ানমার সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি দখলের উদ্দেশ্যে সমন্বিত আক্রমণ পরিচালনা করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কারেন স্টেটের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা বিভিন্ন সময়ে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে বিদ্রোহীরা, যদিও কিছু এলাকায় এখনো পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে KNDF পুনরায় পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ অঞ্চলে যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে মৌসুমি আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি, কর্দমাক্ত রাস্তাঘাট এবং দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা ব্যাহত হয়।

ফলে বর্ষাকালে এক ধরনের অঘোষিত যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি বিরাজ করে। তবে বর্ষা শেষে শুকনো মৌসুম শুরু হতেই আবারও সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।

কারেন স্টেটে KNDF-এর পাশাপাশি আরাকান (রাখাইন) স্টেটে আরাকান আর্মি (AA) এবং শান স্টেটে শান স্টেট আর্মিসহ বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী একযোগে মায়ানমার সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে।

বিভিন্ন ফ্রন্টে সমন্বিত এই অভিযানে কিছু এলাকায় বিদ্রোহীরা অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে দাবি করছে, যদিও অন্য কিছু স্থানে তারা পাল্টা আক্রমণের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুকনো মৌসুম জুড়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি, যোগাযোগপথ ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।

এতে করে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে মায়ানমারের বিভিন্ন রাজ্যে সমন্বিত বিদ্রোহী তৎপরতা দেশটির সামরিক সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

চলমান সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করবে আসন্ন মাসগুলোতে সামরিক কৌশল, আঞ্চলিক সমর্থন এবং মাটির পরিস্থিতির ওপর। তবে আপাতত স্পষ্ট—বর্ষা শেষে মায়ানমারের যুদ্ধক্ষেত্র আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।