পাহাড়ে ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভে উত্তেজনা: লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে হামলার অভিযোগ


নাজিম আল হাসান    |    ০৪:১৬ পিএম, ২০২৫-০৯-২৭

পাহাড়ে ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভে উত্তেজনা: লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে হামলার অভিযোগ

খাগড়াছড়ি, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলায় এক তরুণী নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে চলছে গণবিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও কর্মসূচি।

ক্ষুব্ধ জনস্রোত দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুললেও, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অজ্ঞাত সংগঠনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদকে হাইজ্যাক করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও যানবাহনে হামলার অভিযোগ উঠেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবাহী গাড়ির ওপর হামলা, যা মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ধর্ষণের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের দাবি নিঃসন্দেহে গ্রহণযোগ্য। তবে যদি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এই ন্যায্য আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থ বা ক্ষমতা প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তবে তা সাধারণ মানুষকে আরও বেশি বিপদে ফেলবে।

রোগী, আহত কিংবা মৃতদেহবাহী যানবাহনকে লক্ষ্য করা মানবিকতা ও আন্তর্জাতিক নীতিমালারও পরিপন্থী।

খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ চলাকালে সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালানো, গাছ ফেলে পথরোধের ঘটনা ঘটেছে। কিছু এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের খবরও মিলেছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের রিমান্ড প্রক্রিয়া চলছে। তবু লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ নিরীহ যানবাহনে হামলার ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে স্থানীয় জনগণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে কিছু গোষ্ঠী হাইজ্যাক করার চেষ্টা করছে।

সাধারণ মানুষ বলছে—ন্যায়বিচারের দাবিকে সমর্থন করলেও, প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত করা বা নিরীহ মানুষের ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এতে পাহাড়ের সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

লাশবাহী ও রোগীবাহী যানবাহনে হামলার প্রতিটি ঘটনার জন্য একটি স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি, যেখানে মানবাধিকার প্রতিনিধি ও সমাজকর্মীরাও যুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি যেসব সশস্ত্র গোষ্ঠী বা ব্যক্তি এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকবে, প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার অবশ্যই রক্ষা করতে হবে, তবে সহিংসতা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আন্দোলন হাইজ্যাক হলে আইনগতভাবে প্রতিরোধ জরুরি।

একইসঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সুশাসনী সংগঠন ও সমাজকর্মীদের উদ্যোগে সংলাপ চালু করতে হবে, যাতে জনপ্রিয় আবেগকে সশস্ত্র গোষ্ঠী অপব্যবহার করতে না পারে।

ন্যায়বিচারের দাবি অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হতে হবে, তবে সেই পথ হতে হবে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ। ধর্ষণের শিকার নারীর ন্যায়প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লড়াইয়ে যদি রোগী, সাধারণ মানুষ বা মৃতদেহকে সুরক্ষাহীন করা হয়—তবে সেটি ন্যায় নয়, বরং অন্যায়কে আরও গভীর করে। তাই কর্তৃপক্ষ ও সমাজকে একসাথে এগোতে হবে: ন্যায়ের পক্ষে, কিন্তু শান্তির পথে।