১৮০ দিনের কর্মসূচি দৃশ্যমানের অঙ্গীকার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা পার্বত্যমন্ত্রীর


আলমগীর মানিক    |    ১০:২৫ পিএম, ২০২৬-০২-২২

১৮০ দিনের কর্মসূচি দৃশ্যমানের অঙ্গীকার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা পার্বত্যমন্ত্রীর

ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সমন্বিত কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দুর্নীতি ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দেন।

রবিবার বিকেলে ঢাকা সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা—রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা।

এখানে নানা সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকার সংলাপ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সেগুলোর সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ। “

আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কাজের মাধ্যমে অগ্রগতি নিশ্চিত করা। আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে এমন কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে চাই, যা জনগণ সরাসরি অনুভব করতে পারবেন,”—বলেন তিনি।

দুর্নীতি ও ভূমিদস্যুদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা অবৈধ দখলদারিত্ব বরদাশত করা হবে না।

দুর্নীতি ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রী আরও জানান, সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে বান্দরবানের লামা উপজেলা থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

পর্যায়ক্রমে এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের সব উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “আমরা শুধু আনুষ্ঠানিকতার জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করিনি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করতে এসেছি।” তিনি বলেন, ১৮০ দিনের প্রস্তাবিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সরকারের অঙ্গীকার।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিখাতে উৎপাদন বৃদ্ধি কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী সরকারি কাজে কৃচ্ছ্রসাধন, অপচয় রোধ এবং অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য পরিহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও মেনিফেস্টো অনুসরণ করে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা সফল করতে মন্ত্রণালয় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ সরকারের সকল নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে কর্মকর্তারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জনগণের আস্থা অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।