প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধ দখলে ঘর নির্মাণ, জোরপূর্বক দখল করে নিল অন্যের জায়গা


মেহেদী হাসান    |    ০৭:২১ পিএম, ২০২৬-০২-২১

প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধ দখলে ঘর নির্মাণ, জোরপূর্বক দখল করে নিল অন্যের জায়গা

রাঙামাটির রিজার্ভ বাজারের পুরানপাড়া এলাকায় পৈত্রিক জমি অবৈধভাবে দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হাজী মোঃ শামসুল ইসলাম।

তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতে ভোগদখলে থাকা তাদের পারিবারিক সম্পত্তি একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে হাজী শামসুল ইসলাম বলেন, “রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমির উদ্দিন, এমদাদ হোসেন মানিক, মোঃ রুবেল, মোঃ নিজাম উদ্দিন, রাজু আহম্মদ খোকন ও মোঃ সোহাগসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি প্রকাশ্যে আমাদের জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন।

আমরা বাধা দিতে গেলে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।”

তিনি আরও জানান, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও অভিযুক্তদের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

তার অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও দখলদাররা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এবং নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে হাজী শামসুল ইসলাম অবিলম্বে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, চলমান নির্মাণকাজ বন্ধ এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তিনি বলেন, “প্রশাসন যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকর্মীদের সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ওপর স্পষ্ট হুমকি হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

তারা বলেন, একটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে যদি সাংবাদিকরাও নিরাপদ না থাকেন, তবে তা আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত।

ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তারা অবৈধ দখল উচ্ছেদ, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবার ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।