বিলাইছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত


বিলাইছড়ি প্রতিনিধি    |    ০৩:১৯ পিএম, ২০২৬-০২-২১

বিলাইছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিনম্র শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় পালিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।

রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রেসক্লাব, বিএনপি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসনাত জাহান খান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ গোলাম আজম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুরজিত দত্ত, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজেশ প্রসাদ রায়, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমেদ, কুতুবদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রঞ্জন তঞ্চঙ্গ্যা এবং প্রভাষক ইয়াসমিন সুলতানা।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুবেল বড়ুয়ার সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করার অনন্য নজির বাঙালি জাতির ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং বিশ্বের সব মাতৃভাষার প্রতি সম্মান প্রদর্শনে সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার থাকতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও হাসনাত জাহান খান বলেন, “মাতৃভাষাকে টিকিয়ে রাখতে হলে সেই ভাষাভাষী মানুষদেরই সবার আগে দায়িত্ব নিতে হবে।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশুদের জন্য মানসম্মত বাংলা কনটেন্টের অভাব রয়েছে, যা ভাষা চর্চার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে।

ইংরেজি বা অন্যান্য ভাষা শেখার পাশাপাশি নিজ ভাষার সঠিক চর্চা ও সমৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিনয়ের সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান এবং উন্নত জাতি গঠনে ইতিহাস ও সাহিত্য পাঠের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বড়দের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শিশুরা বড়দের অনুসরণ করেই শেখে।

দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিলাইছড়িতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়।