লক্ষীছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিদ্যালয়ের হোস্টেল ও সংযোগ সড়ক উদ্বোধন


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৮:০০ পিএম, ২০২৬-০১-২৫

লক্ষীছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিদ্যালয়ের হোস্টেল ও সংযোগ সড়ক উদ্বোধন

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলায় শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বাইন্যাছোলা–মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ছাত্র হোস্টেল, বিজ্ঞান ও আইসিটি ভবন এবং বিদ্যালয় সংযোগকারী সড়কের উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় লক্ষীছড়ি জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব স্থাপনার উদ্বোধন করেন লক্ষীছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ তাজুল ইসলাম।

বাইন্যাছোলা–মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি ওই এলাকার একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বাঙালি ও পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে।

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন ও নিয়মিত পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এবং লক্ষীছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে একটি ছাত্র হোস্টেল নির্মাণ করা হয়েছে।

এ হোস্টেলে একসঙ্গে ৪০ জন শিক্ষার্থী নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অবস্থান করতে পারবে।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি দ্বিতলবিশিষ্ট বিজ্ঞান ও আইসিটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ভবনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে, যা তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের অংশ হিসেবে স্কুলের মূল ফটক পর্যন্ত ৫৩৫ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

এ সড়ক নির্মাণের ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত আরও সহজ, নিরাপদ ও সময় সাশ্রয়ী হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তারা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষার মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণকে আরও সুদৃঢ় করছে।