উন্নয়নের পথে রাঙামাটি–খাগড়াছড়ি সড়ক, একনেকে প্রকল্প অনুমোদিত


আলমগীর মানিক    |    ০৭:৫২ পিএম, ২০২৬-০১-২৫

উন্নয়নের পথে রাঙামাটি–খাগড়াছড়ি সড়ক, একনেকে প্রকল্প অনুমোদিত

দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রশস্তকরণ ও মানোন্নয়নের অনুমোদন পেল রাঙামাটি–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক।

 রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

রাঙামাটি সড়ক সার্কেলের আওতাধীন রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের এ আঞ্চলিক মহাসড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অপ্রশস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল।

সড়কটি প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণের মাধ্যমে বিদ্যমান সড়ক নেটওয়ার্কের মান উন্নয়ন, নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

‘রাঙামাটি–মহালছড়ি–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও যথাযথ মানে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।

রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, রাঙামাটি থেকে মহালছড়ি পর্যন্ত ৩৮ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সড়কাংশ ১৯৮৬ সালে তৎকালীন চেঙ্গী ভ্যালি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়।

পরবর্তীতে মহালছড়ি থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত ২৩ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সড়কাংশ খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগ সরকারি অর্থায়নে নির্মাণ করে।

পুরো সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৬১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। এর মধ্যে মাত্র ১৪ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার সড়কের প্রস্থ ৫ দশমিক ৫০ মিটার এবং বাকি ৪৬ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার সড়কের প্রস্থ মাত্র ৩ দশমিক ৭০ মিটার, যা বর্তমানে যানবাহন চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সড়কটি প্রশস্ত করার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণের যাতায়াতজনিত দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী অল্প সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন সহজ হবে।

এতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

উল্লেখ্য, অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।