নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫:০৭ পিএম, ২০২৫-১২-১৪
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা, জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি ও একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান' সবকিছুকে উপেক্ষা করেই রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ ইটভাটা।
পাহাড় কেটে, প্রাকৃতিক বন উজাড় করে কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে ইট পোড়ানো হলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে পারছে না প্রশাসন। পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের মধ্যে এক ধরনের ‘লুকোচুরি’ খেলায় পাহাড় ও বন ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী পাহাড়ি এলাকায় পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা নিষিদ্ধ। এ নির্দেশ বাস্তবায়নে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে ইটভাটা বন্ধ রাখতে জনগণকে অবহিত করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, কাউখালী, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলায় একাধিক ইটভাটা বর্তমানে সচল রয়েছে।
কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া সুগার মিল–সংলগ্ন মহাজনপাড়া এলাকায় পাহাড়ি বনের ভেতরে অবস্থিত একটি ইটভাটায় সরাসরি প্রাকৃতিক বনের কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। চুল্লির আশপাশে স্তূপ করে রাখা রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির অপরিপক্ব গাছ। একই চিত্র দেখা গেছে কাউখালীর আমতলা, কালাগাজী এবং আশপাশের এলাকায়।
লংগদু উপজেলায় কাঠ জ্বালিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা ইউনিয়নের তুলাবান–মুসলিম ব্লক সীমান্ত এলাকায় নির্মিত ফাইভ স্টার (Five Star) ব্রিকস নামের ইটভাটাটিও পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই গড়ে উঠেছে।
জানা গেছে, রাঙামাটি জেলায় মোট ২৯টি ইটভাটা রয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের তালিকায় রয়েছে ২৫টি—বাকি চারটি তালিকার বাইরে। কাউখালী উপজেলা: ১৬টি, লংগদু উপজেলা: ৬টি, বাঘাইছড়ি উপজেলা: ৩টি, রাজস্থলী উপজেলা: ৩টি, কাপ্তাই উপজেলা: ১টি।
সরকারি একটি তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে জেলায় ১২টি ইটভাটা সচল এবং ১৬টি বন্ধ দেখানো হলেও বাস্তবে বন্ধ দেখানো অনেক ভাটাই গোপনে চালু রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, “রাঙামাটিতে কোনো ইটভাটারই পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। ফলে সবগুলোই অবৈধ। ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন অনুযায়ী পাহাড়ি এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি নেই।”
তিনি জানান, গত বছর কাউখালীতে কয়েকটি ইটভাটা উচ্ছেদ করা হলেও আবারও নতুন করে ভাটা গড়ে উঠছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিন দিনে ৯টি ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কয়েকটি ভাটার চুল্লি ভেঙে দেওয়া হলেও কিছুদিন পর আবার তা চালু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, “পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছে।”
পরিবেশবাদীদের মতে, জেলার ২৯টি ইটভাটার মধ্যে অন্তত ১৭টি পাহাড় কেটে নির্মিত। এসব ভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পাহাড়ি বন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এর ফলে ভূমিধস, মাটির ক্ষয় এবং জলাধার ভরাটের ঝুঁকি বাড়ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল থাকায় প্রভাবশালী মহল সুযোগ নিচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে রাঙামাটির পাহাড় ও বন চরম পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : মায়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধে নতুন করে তীব্রতা দেখা দিয়েছে। দেশটির কারেন্নি (কারেনি) অঞ্চলে সক্রিয় ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রমজান মাসে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এবার পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাব...বিস্তারিত
মাহাদি বিন সুলতান : রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ...বিস্তারিত
মাহাদি বিন সুলতান : পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর পদক্ষ...বিস্তারিত
বিলাইছড়ি প্রতিনিধি : রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে বিলাইছড়ি উপজেল...বিস্তারিত
আইয়ুব চৌধুরী : পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে রাঙামাটির রাজস্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited