তিন দিন পর নাফাখুম থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ০২:৫৫ এএম, ২০২৫-১১-১৭

তিন দিন পর নাফাখুম থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

বান্দরবানের থানচি উপজেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ নাফাখুম জলপ্রপাত আবারও ঘটনার সাক্ষী হলো।

ঢাকার ডেমরা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসে নিখোঁজ হওয়া পর্যটক মো. ইকবাল হোসাইন (২৪)–এর মরদেহ নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দল।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার ও ডুবুরি ইউনিটের টিম লিডার রহিদুল ইসলাম জলপ্রপাতের নিচের গভীর খাদ ও জটিল পানির গুহা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া ডুবুরি দলের সদস্যরা জানায়—নাফাখুমের নিচে ‘কুম’ নামে পরিচিত একটি অতিগভীর খাদ রয়েছে, যেখানে প্রখর স্রোতের কারণে দেহটি আটকে ছিল।

অক্সিজেন সেট নিয়ে পর্যায়ক্রমে তিনজন ডুবুরি প্রায় ৮ ঘণ্টা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে দেহটি উদ্ধার করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়—শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার ডেমরা এলাকা থেকে ১৭ জন পর্যটকের একটি দল থানচিতে আসে। পরদিন তারা নাফাখুম জলপ্রপাতে গোসল করতে নামলে হঠাৎ প্রবল স্রোতের টানে ইকবাল হোসাইন তলিয়ে যান।
এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় সঙ্গী দলের বেশিরভাগই ঘটনাস্থলেই আটকে থাকেন। শনিবার সকালে শুধুমাত্র পাঁচজন পর্যটক থানচি সদরে পৌঁছে বিষয়টি পুলিশ, প্রশাসন, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিসকে জানান।

সংবাদ পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, থানচি থানা পুলিশ, বিজিবি সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের সমন্বয়ে দ্রুত একটি উদ্ধার অভিযান গঠন করা হয়।

কয়েক ঘণ্টার প্রস্তুতির পর চট্টগ্রাম থেকে বিশেষ ডুবুরি দল এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

ডুবুরি দলের প্রধান রহিদুল ইসলাম বলেন—
“এই জলপ্রপাতে নিচে একটি ভয়ংকর গভীর কুম রয়েছে। দেহটি সেই কুমে আটকে থাকায় উদ্ধার করতে সময় লেগেছে। আমরা পর্যায়ক্রমে তিনজন ডুবুরি অক্সিজেন নিয়ে নেমে প্রায় আট ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেছি।”

 

থানচি থানার অফিসার ইনচার্জ নাছির উদ্দিন মজুমদার জানান—
“মরদেহটি উদ্ধার শেষে থানায় আনা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল পাহাড়ি পথে ফিরছে বলে রাত হয়ে যেতে পারে। সোমবার সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

নাফাখুমের দুর্ধর্ষ স্রোত এবং গভীর খাদকে কেন্দ্র করে প্রতিবারই পর্যটকদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন স্থানীয় প্রশাসন।

এ ঘটনায় আবারও নাফাখুমের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।