ধর্ষণকে সাম্প্রদায়িক ইস্যু বানানোর প্রতিবাদে নৌপথে মানববন্ধন পিসিসিপির


মেহেদী হাসান    |    ০৯:৩৪ পিএম, ২০২৫-১০-২৪

ধর্ষণকে সাম্প্রদায়িক ইস্যু বানানোর প্রতিবাদে নৌপথে মানববন্ধন পিসিসিপির

পাহাড়ে ধর্ষণ ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রতিবাদে নৌপথে মানববন্ধন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখা।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে রাঙামাটি পৌর এলাকার কাপ্তাই হ্রদের শহীদ মিনার ঘাট থেকে শুভলং ঝর্ণা পর্যন্ত নৌযানে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

পরে শুভলং ঝর্ণার সামনে তারা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজ, সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক মো. পারভেজ মোশাররফ হোসেন। এসময় বক্তব্য রাখেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন, পিসিএনপি রাঙামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, পিসিএনপি বরকল উপজেলা নেতা সোহরাব হোসেন, এমদাদুল ইসলাম, পিসিসিপি নেতা রিয়াজুল ইসলাম বাবুআরিয়ান রিয়াজ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন,
“সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে তিন মারমা যুবকের হাতে এক প্রতিবন্ধী মারমা নারী গণধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন, কিন্তু এখনো সেই ধর্ষকদের বিচার হয়নি।

অন্যদিকে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলার অযোদ্ধা কালি মন্দিরে চার পাহাড়ি যুবকের হাতে এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে, এবং গতকাল (২৩ অক্টোবর) আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র এলাকায় চাকমা সম্প্রদায়ের এক শিক্ষিকাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ত্রিপুরা যুবকের বিরুদ্ধে—সে-ও পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। তবু চারপাশে নীরবতা!”

তারা আরও বলেন,
“যে পাহাড় একসময় ধর্ষণের ‘মিথ্যা ইস্যু’তে রাস্তায় আগুন ধরিয়েছিল, আজ সত্যিকারের ধর্ষণের ঘটনায় কেন সেই কণ্ঠগুলো নীরব? কারণ এবার অপরাধী তাদের নিজ সম্প্রদায়ের বলে? তাহলে কি পাহাড়ে ধর্ষণ এখন জাতিগত ও রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে গেছে?”

বক্তারা অভিযোগ করেন,
“গতবার ধর্ষণের ইস্যু নিয়ে কিছু পাহাড়ি সংগঠন সহিংসতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল, যেখানে তিনজন প্রাণ হারান, অসংখ্য বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়। সেনাবাহিনী ও বাঙালিদের উপর হামলা পর্যন্ত চালানো হয়। তাহলে প্রশ্ন ওঠে—ধর্ষণের প্রতিবাদ কি সত্যিকারের ন্যায়বিচারের জন্য, নাকি সহিংসতা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে?”

বক্তারা আরও দাবি করেন,
“এসব সহিংসতার নেপথ্যে যারা কলকাঠি নাড়ছে, তাদের অন্যতম সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও পাহাড় অস্থিতিশীলতার খলনায়ক মাইকেল চাকমাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে রায় কার্যকর করতে হবে।