ভরণপোষণ না দেওয়া ও অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ


মেহেদী হাসান    |    ১১:০৫ পিএম, ২০২৬-০১-১৬

ভরণপোষণ না দেওয়া ও অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ

রাঙ্গামাটিতে স্বামীর বিরুদ্ধে ভরণপোষণ না দেওয়া এবং অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ এনেছেন নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট এলাকার মোছাঃ রোকেয়া বেগম (৫৮)। বুধবার (১৫ মার্চ ২০২৫) তিনি কোতোয়ালি থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগে রোকেয়া বেগম জানান, তার স্বামী মোঃ আলম হাওলাদার (৫৮) গত ৮ বছর ধরে বাড়িতে আসছেন না এবং পরিবারের কোনো খোঁজখবর রাখছেন না।

বর্তমানে তিনি রাঙামাটি সদর এলাকার কালেক্টর মসজিদে খাদেমের দায়িত্ব পালন করছেন।

রোকেয়া বেগম দাবি করেন, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিক বৈঠকের সময় আলম হাওলাদার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং সেই স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার একটি কাগজও দেখান।

সে সময় তিনি ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার কথা বললেও এখন পর্যন্ত কোনো খরচ দেননি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি বুড়িঘাট এলাকায় এক মহিলাকে নিয়ে স্বামীর উপস্থিতি দেখে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি ওই মহিলাকে তার স্ত্রী বলে পরিচয় করান।

পরে পুনরায় জানতে চাইলে তালাকের বিষয়ে অসঙ্গত তথ্য দেন। এরপর বিবাদী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
রোকেয়া বেগম বলেন, “স্বামী আমার ভরণপোষণ না চালিয়ে আমার অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, যা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।”

তিনি এ বিষয়ে আইনি সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তার বড় মেয়ে ফাহিমা বলেন, “আমরা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে শুনেছি বাবা নাকি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আমরা কেউ বিশ্বাস করিনি।

পরে হঠাৎ একদিন বাবা তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আমাদের বাসায় আসেন। তখন আমাদের সন্দেহ দূর হয় এবং আমরা নিশ্চিত হই।

বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর আমাদের মা এবং আমাদের ভাইবোনদের কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না।”
স্বামী আলম হাওলাদার বলেন, “আমার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের করা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অযৌক্তিক।

তাদের অবহেলা ও অযত্নের কারণে দীর্ঘদিন ভরণপোষণের টাকা আমি দিইনি। যেহেতু আমি একটি মসজিদে চাকরি করি, সে সুবাদে আমাকে এখানে থাকতে হয়।

তাই প্রথম স্ত্রীকে আমার সাথে থাকতে বলেছিলাম, কিন্তু সে কিছুদিন পর চলে যায়। দীর্ঘদিন একা থাকার পর বাধ্য হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করি। বিয়ের আগে স্ত্রী-সন্তানদের বারবার জানাই এবং তারা সম্মতি দেয়। পরেও আমি অনেকদিন অপেক্ষা করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেই।
বিয়ের পর হঠাৎ প্রথম স্ত্রী ও সন্তানরা বিষয়টি নিয়ে ঝগড়া শুরু করে এবং নানাভাবে আমাকে চাপ দেয়।

পরে তাদের চাপে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাকনামায় সই করি। কিন্তু আমরা সরাসরি তালাক বলিনি এবং মন থেকেও গ্রহণ করিনি।

পরিস্থিতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। পরবর্তীতে মন না মানলে দ্বিতীয় স্ত্রীকে আবার ঘরে ফিরিয়ে আনি।”