রাবিপ্রবি’তে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড–২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ


আলমগীর মানিক    |    ০৬:২৩ পিএম, ২০২৬-০১-০৩

রাবিপ্রবি’তে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড–২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ

রাঙ্গামাটিতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির আয়োজনে এবং রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ‘বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড–২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন–২-এর সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত স্মরণীয়। রাঙ্গামাটি জেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ থেকে আগত বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরাই আজ এ অনুষ্ঠানের মূল অতিথি।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার আইন ২০০১ সালে প্রণীত হলেও ২০১৫ সালে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়।

পর্যাপ্ত সদিচ্ছা ও পরিচর্যার অভাবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার সব ধরনের যোগ্যতা রয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের সমৃদ্ধ বনজ সম্পদ, মৎস্যসম্পদ, পাহাড়, হ্রদ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং কার্বন নিঃসরণহীন পরিবেশ গবেষণার জন্য অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও বিজ্ঞানভিত্তিক সম্মেলনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে বিজ্ঞানচর্চায় আরও আগ্রহী করে তুলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উপাচার্য বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে যদি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ ও বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন তৈরি করা যায়, তাহলেই এ আয়োজন সার্থক হবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির খ্যাতনামা বিজ্ঞানী ড. শমসের আলী, ড. জামাল নজরুল ইসলাম এবং পাঁচব্রীহি ধানের আবিষ্কারক বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীর কাজ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অলিম্পিয়াডে প্রাপ্ত পদক একদিন পার্বত্য অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীদের উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি অর্জনে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক পর্যায়ে (স্কুল শাখা) বিজয়ী ১০ জন এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে (কলেজ শাখা) বিজয়ী ৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে সনদপত্র, পদক ও টি-শার্ট তুলে দেন উপাচার্য।

বিজয়ী শিক্ষার্থীরা আগামী ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে অনুষ্ঠিতব্য কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করবেন।

মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজয়ীরা হলেন— ত্রিশিলা দাশ (প্রথম), ত্রাতুল চাকমা (দ্বিতীয়), মো. রকিবুল হাসান (তৃতীয়), তজিম চাকমা (চতুর্থ), আসমা খান (পঞ্চম), কৌশিকি কুন্তলা (ষষ্ঠ), তাসমিয়া তাবাসসুম (সপ্তম), মো. নাহিম নুর নাহিম (অষ্টম), আয়ুষ মহাজন (নবম) ও মোস্তাকিম হোসেইন (দশম)।
উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজয়ীরা হলেন— রাফাতুল ফারিহা চারু (প্রথম), অর্কিট চাকমা (দ্বিতীয়), ফারহান তানভির (তৃতীয়), মো. শামীম (চতুর্থ) এবং সিয়াম আলদিন (পঞ্চম)।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এছাড়া আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করায় আয়োজক কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষার্থী এবং জেলার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানান উপাচার্য।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ও বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জামশেদ আলম পাটোয়ারী, বিভাগীয় সমন্বয়কারী সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল ইসলাম এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক আহমেদ ইমতিয়াজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল কাউসার ও বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সঞ্চিতা চক্রবর্তী।

উল্লেখ্য, এবারের বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে রাঙ্গামাটি জেলার ৩০টির বেশি স্কুল ও কলেজের ২১৯ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন।

এর মধ্যে স্কুল পর্যায় থেকে ১১৪ জন এবং কলেজ পর্যায় থেকে ৪৩ জনসহ মোট ১৫৭ জন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

সকাল ৯টায় র‌্যালি, জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অলিম্পিয়াডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।