কাপ্তাই হ্রদে ভাসমান কৃষি প্রশিক্ষণের সমাপনী


সিয়াম    |    ১২:০০ এএম, ২০২৫-১২-০৩

কাপ্তাই হ্রদে ভাসমান কৃষি প্রশিক্ষণের সমাপনী

দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ বর্তমানে চরম সংকটের মুখে। প্রতি বছর জলজ আগাছা কচুরিপানার প্রভাব হ্রদের পানি প্রবাহ, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকাকে গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।

অন্যদিকে পার্বত্য অঞ্চলে বাড়তি জনসংখ্যার চাপ ও কৃষিজমির ঘাটতির কারণে স্থানীয় মানুষ বিশেষ করে নারীরা নতুন কর্মসংস্থানের পথে পিছিয়ে পড়ছে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্থানীয় তরুণদের অংশগ্রহণে LELA (Learn from the Environment and Lead to Adapt) প্রকল্পের উদ্যোগে প্রান্তিক নারীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় ভাসমান কৃষি পদ্ধতির বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

০৩ নভেম্বর থেকে ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মাসব্যাপী সময়ে ৭ দিনের এই প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান আজ ভ্রাম্মণটিলায় অনুষ্ঠিত হয়।

LELA প্রকল্পের লক্ষ্য হলো স্থানীয় সমস্যার জন্য স্থানীয় সমাধান তৈরি করা, এবং পার্বত্য অঞ্চলের প্রচলিত জ্ঞান, আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির সমন্বয়ে টেকসই ভাসমান কৃষি মডেল গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব নাইউপ্রু মারমা, সদস্য, রাঙামাটি জেলা পরিষদ। তিনি বলেন—
“লিলা কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কাপ্তাই হ্রদের কচুরিপানা নিয়ে স্থানীয়রা প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়েন। এই উদ্যোগ স্থানীয় নারীদের আয়ের পথ তৈরি করতে পারে।”

উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব শাহানাজ পারভীন বলেন—
“এই উদ্যোগটি শুধু নারীদের নয়, পুরো এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কাপ্তাই হ্রদের কচুরিপানা জলজ প্রাণ ও পরিবেশকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। তাই ভাসমান চাষাবাদের মতো নতুন উদ্ভাবন ও চিন্তাধারা অব্যাহত রাখতে হবে।”

টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর জনাব বেনজিন চাকমা বলেন—
“জনসংখ্যা বাড়ছে, কৃষিজমি কমছে। তাই কচুরিপানাকে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এই কার্যক্রমে নারীদের পাশাপাশি পুরুষদের যুক্ত করাও জরুরি। সরকার বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে, লিলাকেও এতে যুক্ত হতে হবে।”

প্রগ্রেসিভ রাঙামাটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার জনাব সুরো চাকমা বলেন—
“লিলার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। যোগাযোগ বৃদ্ধি ও ফান্ড সংগ্রহের মাধ্যমে এ উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।”

প্রশিক্ষণার্থী কালাসোনা চাকমা বলেন—
“প্রশিক্ষণে যা শিখেছি, তা দিয়ে আমরা ভাসমান বেড তৈরি করব। লিলা প্রকল্পের সহায়তায় আমরা স্বাবলম্বী হতে পারব বলে বিশ্বাস করি।”

আরেক প্রশিক্ষণার্থী স্বর্ণা বেগম বলেন—
“সম্পূর্ণ সহায়তা না পেলেও আমরা নিজেদের পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ভাসমান বেড চালিয়ে যাব।”

লিলা প্রকল্পের আওতায় ১৫ জন স্থানীয় নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়—

  • ভাসমান বেড তৈরি

  • জৈব ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ

  • উৎপাদনের বিপণন কৌশল

  • রক্ষণাবেক্ষণ

  • পারিবারিক পুষ্টি বাগান তৈরির ধারণা

এই উদ্যোগ কচুরিপানাকে সমস্যা থেকে সম্পদে রূপান্তর করার পাশাপাশি স্থানীয় নারীদের আয়ের সুযোগ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হিল সার্ভিস রাঙামাটি, বিডি ক্লিন রাঙামাটি জেলা, ইয়ুথ ভলান্টিয়ার ফাউন্ডেশন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ছাত্র প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।