লংগদুতে পাহাড়ী-বাঙ্গালী বিরোধ মিমাংসায় বিজিবির ভূমিকা


গোলামুর রহমান-লংগদু    |    ০৯:২৪ পিএম, ২০২৫-১০-৩০

লংগদুতে পাহাড়ী-বাঙ্গালী বিরোধ মিমাংসায় বিজিবির ভূমিকা

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার চরুয়াখালী এলাকায় পাহাড়ী ও বাঙ্গালীদের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তিতে কার্যকর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রাজনগর জোনের অধীনস্থ চরুয়াখালী বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বাসিন্দা আজিজুল হক আবু বক্কর সিদ্দিকের নিকট (যিনি সূশীলময় চাকমার নিকট হতে জমিটি ক্রয় করেন) এবং জজ মিয়া সুমন চাকমার নিকট হতে আদালতের এফিডেভিটের মাধ্যমে পাহাড়ী জমি ক্রয় করেন। জমি বিক্রয়ের ঘটনায় স্থানীয় পাহাড়ীদের মধ্যে পূর্ব থেকেই অসন্তোষ বিরাজ করছিল।

বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কয়েক দফায় মিমাংসার উদ্যোগ নিলেও পাহাড়ীদের অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

এরই প্রেক্ষিতে গত ২০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে পাহাড়ী-বাঙ্গালী বসতঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ তিনজন বাঙ্গালীকে আটক করে জেলা কারাগারে প্রেরণ করে। এতে এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বিজিবির উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি পরিবারকে (পাহাড়ী ৩, বাঙ্গালী ২) নগদ অর্থ, খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তা প্রদান করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর ২০২৫) চরুয়াখালী বিজিবি ক্যাম্পের সামনে রাজনগর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল নাহিদ হাসান এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান-এর উপস্থিতিতে বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আজিজুল হক তার ভোগদখলীয় জায়গায় বসবাস করবেন এবং জজ মিয়ার ক্রয়কৃত জমির পরিবর্তে তাকে অন্যত্র জমি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি পাহাড়ীরা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করবেন। উভয় পক্ষই এই সমঝোতা মেনে নেয় এবং ভবিষ্যতে আর কোনো বিরোধ সৃষ্টি হবে না বলে অঙ্গীকার করেন।

এছাড়া উভয় পক্ষের দায়ের করা মামলা দুইটিও আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

রাজনগর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল নাহিদ হাসান বলেন,সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি বিজিবি সবসময় পার্বত্য এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের মাধ্যমে যেকোনো বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা সম্ভব। বিজিবি সেই লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

বৈঠকে উপস্থিত পাহাড়ী ও বাঙ্গালী জনগণ বিজিবির এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটায় ভবিষ্যতে সম্প্রীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।