রাবিপ্রবি’তে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা ও স্ক্রীনিং ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত


আলমগীর মানিক    |    ০৩:৩২ পিএম, ২০২৫-১০-২৭

রাবিপ্রবি’তে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা ও স্ক্রীনিং ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর ২০২৫) সকাল ১০টায় একাডেমিক ভবন-১ এর সভাকক্ষ-২ এ “Thalassemia Awareness & Screening Campaign” অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে গ্রামীণ সমাজে নানা গল্প ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এ যুগে আমরা অনেকদূর এগিয়েছি, তবুও এখনো সচেতনতার ঘাটতি রয়ে গেছে। আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে আরও জানব এবং এর প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারব।”

তিনি আরও বলেন, “ছোটবেলায় শুনতাম কারো চোখ, হাত বা পা ফ্যাকাশে হয়ে গেলে বলা হতো ‘জিনের আছর’। কিন্তু এখন আমরা জানি, এটি একটি জেনেটিক ডিসঅর্ডার।

পাশাপাশি আধুনিক জীবনযাপনের পরিবর্তন, যেমন- রাত জেগে মোবাইল বা স্ক্রিন ডিভাইস ব্যবহার, প্রসেসড ফুডে অভ্যস্ততা, মানসিক চাপ ইত্যাদিও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়তে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।”

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ও কী-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Bioted-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ সওগাতুল ইসলাম। প্রোগ্রামটি সঞ্চালনা করেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ সামসিদ দোহা উৎস।

সচেতনতামূলক এই ক্যাম্পেইনে রাবিপ্রবির প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিনামূল্যে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রীনিংয়ে অংশগ্রহণ করেন।

ক্যাম্পেইনটি আয়োজন করে Bioted, এবং এতে সার্বিক সহযোগিতা ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে Base Care Foundation BangladeshGenX প্রতিষ্ঠানসমূহ।

উল্লেখ্য, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ যা জিন মিউটেশনের কারণে হয়। হিমোগ্লোবিন চেইনের ত্রুটির ফলে শরীরে পর্যাপ্ত লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয় না, ফলে রোগীর নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়।

চিকিৎসা হিসেবে রক্ত সঞ্চালন, আয়রন চিলেশন, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন ও জিন থেরাপি ব্যবহৃত হয়। এ রোগ প্রতিরোধের মূল উপায় হলো বিবাহ-পূর্ব স্ক্রীনিং, গর্ভস্থ শিশুর স্ক্রীনিং, সামাজিক সচেতনতা ও জেনেটিক কাউন্সেলিং।