কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নালন্দা বৌদ্ধ বিহারে ৩৮তম কঠিন চীবর দান উদযাপন


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৯:৩৯ পিএম, ২০২৫-১০-২৫

কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী নালন্দা বৌদ্ধ বিহারে ৩৮তম কঠিন চীবর দান উদযাপন

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে কর্ণফুলী নালন্দা বৌদ্ধ বিহারে ৩৮তম শুভ দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব উদযাপিত হয়েছে।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের কর্ণফুলী নালন্দা বৌদ্ধ বিহারে এ ধর্মীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাটহাজারী ভিক্ষু সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিহারের অধ্যক্ষ ড. ভদন্ত বুদ্ধপাল মহাথেরো। প্রধান অতিথি ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সম্মানিত ট্রাস্টি মেজর (অব.) ডা. অজয় প্রকাশ চাকমা

প্রধান ধর্মদেশক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গুনিয়া শঙ্খরাজ ভিক্ষু সমিতির কোষাধ্যক্ষ ভদন্ত উওমানন্দ স্থবির

বিশেষ ধর্মদেশক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চিতরম মইদংপাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত অক্ষয়ানন্দ স্থবির এবং জুমপাড়া সর্বজনীন রত্ন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত জ্যোতিলংকার ভিক্ষু

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সমর বড়ুয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহ-সভাপতি জয়সীম বড়ুয়া ও অর্থ সম্পাদক রাজু কান্তি বড়ুয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বিহারের সাধারণ সম্পাদক কাজল বড়ুয়াঅদ্রি বড়ুয়া

এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাংবাদিক নির্মল বড়ুয়া মিলন

বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি বৌদ্ধাষ্কুর বৌদ্ধ বিহার আসামবস্তির উপদেষ্টা জুঁই চাকমা। পঞ্চশীল প্রার্থনা পরিচালনা করেন বিহারের সাংগঠনিক সম্পাদক ওভেল বড়ুয়া

উৎসব উপলক্ষে ভোর থেকেই নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত বৌদ্ধ নারী-পুরুষ বিহারে সমবেত হন। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল ফুলপূজা, বুদ্ধপূজা, দেশ-জাতি তথা সকল প্রাণীর হিত, সুখ ও মঙ্গল কামনায় সমবেত প্রার্থনা ও পঞ্চশীল গ্রহণ, বুদ্ধ মূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার, কল্পতরু দান ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পিণ্ডদানসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

সন্ধ্যায় হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফানুস উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি সমর বড়ুয়া বলেন, “আমরা যে কাপড়টি পরিধান করি সেটিই চীবর নামে পরিচিত। প্রবারণা পূর্ণিমার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন বিহারে এই চীবর দান অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।”

সহ-সভাপতি জয়সীম বড়ুয়া বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুতা থেকে কাপড় বুনে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করতে হয়। এজন্যই এটি ‘কঠিন চীবর দান’ নামে পরিচিত।”

মানব জীবনের সব অন্তরায় দূর হোক—এই মহত্‍ কামনা ও সমবেত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ৩৮তম কঠিন চীবর দান উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।