উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নানিয়ারচরে কঠিন চিবরদান অনুষ্ঠিত


মাহাদি বিন সুলতান    |    ১০:৪০ পিএম, ২০২৫-১০-১৭

উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নানিয়ারচরে কঠিন চিবরদান অনুষ্ঠিত

রাঙামাটির নানিয়ারচরে উৎসবমুখর ও ধর্মীয় মর্যাদার মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী রত্নাঙ্কুর বন বিহারে কঠিন চিবরদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজারো ভক্ত ও দায়ক-দায়িকা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নানিয়ারচর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান পিএসসি। সভাপতিত্ব করেন রত্নাঙ্কুর বন বিহার অধ্যক্ষ বিশুদ্ধানন্দ মহাস্থবির, আর প্রধান দায়ক ছিলেন রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু

সঞ্চালনা করেন রত্নাঙ্কুর বন বিহার পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ঊষা কিরণ চাকমা, এবং ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন ফেরোমন আন্তর্জাতিক বন ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ভৃগু মহাস্থবির

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন,

কঠিন চিবরদান শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি মানুষে মানুষে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন। রত্নাঙ্কুর বন বিহার শুধু ভক্তদের নয়, সমাজের শান্তি, শিক্ষা ও সেবার উন্নয়নে কাজ করছে—যা সামগ্রিক উন্নয়ন ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।”

প্রধান দায়ক দীপন তালুকদার দীপু বলেন,

৫ আগস্টের পর দেশ নতুনভাবে স্বপ্ন দেখছে। আমি এই এলাকার উন্নয়নে, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চাই। আগামীর নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন ও উন্নত সমাজ গড়াই হবে আমার লক্ষ্য।”

অনুষ্ঠানে পুণ্যার্থীরা বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কল্পতরু দানসহ নানাবিধ দান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন—
রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক ভিক্ষু জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবির ও বশিষ্ঠ মহাস্থবির,
রত্নাঙ্কুর বন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি কমল কান্তি দেওয়ান,
সাধারণ সম্পাদক প্রানময় চাকমা,
রাঙামাটি জেলা বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক দেবজ্যোতি চাকমা,
নানিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রণ বিকাশ চাকমা,
সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক হাওলাদার,
জেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক ফনিন্দ্র চাকমা,
জেলা কৃষক দলের সভাপতি অলোক প্রিয় চৌধুরী রিন্টু,
জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক পতন চাকমা,
কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ ফোরামের সদস্য সচিব পার্থ প্রতিম বড়ুয়া অপু,
জেলা বৌদ্ধ ফোরামের সভাপতি রতন বিকাশ চাকমা প্রমুখ।

দিনব্যাপী আয়োজিত এই ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিয়ে পুণ্যার্থীরা প্রার্থনা, পূজা ও দান কর্মে অংশগ্রহণ করে মহান বুদ্ধের আশীর্বাদ লাভের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।