ধুপ্যাচর বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দান সম্পন্ন


সিয়াম    |    ০৯:৪৬ পিএম, ২০২৫-১০-১১

ধুপ্যাচর বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দান সম্পন্ন

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ধুপ্যাচর ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারে ৩৭তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান আড়ম্বরপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) ভোরে বিশ্বশান্তি ও সকলের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘ ও অষ্টশীল ধারীদের প্রাতঃরাশ দান, জাতীয় ও বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষু সংঘকে ফুল দিয়ে বরণ, গাথা পাঠের মাধ্যমে বুদ্ধ পূজা, বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, উপগুপ্ত বুদ্ধমূর্তি উৎসর্গ, কল্পতরুদান, পিণ্ডদান, আকাশ প্রদীপ ও হাজার বাতি প্রজ্জ্বলন এবং চীবর দানসহ নানাবিধ দান কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

একই সঙ্গে প্রয়াত আষাম মালা তঞ্চঙ্গ্যার সাপ্তাহিক ক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়।

সকালের প্রথম পর্বে ভদন্ত আর্য্যলঙ্কার মহাথের সভাপতিত্ব করেন। এসময় প্রধান ধর্মালোচক হিসেবে ধর্মদেশনা দেন বহলতলী জ্ঞানাঙ্কুর বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সুমেধানন্দ থের এবং বিশেষ ধর্মালোচক ছিলেন বাঙ্গালকাটা বহুমুখী বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত তেজবর্ণ ভিক্ষু।

দ্বিতীয় পর্বে মূল কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ধুপ্যাচর ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শাক্য প্রিয় ভান্তে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুপম চাকমা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১নং বিলাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ওয়ার্ড সদস্য জ্যোতিময় চাকমা ও বিহার পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা সাথোয়াই মার্মা।

ধর্মদেশনায় অংশ নেন কেরনছড়ি দশবল বৌদ্ধ বিহার ও কর্ণফুলী নালন্দা বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত বিপুল জ্যোতি থের এবং নিরিবিলি কুটিরের অধ্যক্ষ মহাকাল থের প্রমুখ।

সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফানুস উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের ধর্মীয় আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

প্রসঙ্গত, প্রবারণা পূর্ণিমার (আশ্বিনী) পরদিন হতে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত মাসব্যাপী এ কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা পালন করে থাকেন।

বৌদ্ধ বিনয় অনুযায়ী, কোনো বিহারে ভিক্ষু বা সংঘ তিন মাস বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান সম্পন্ন করলে কেবল সে বিহারেই কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হতে পারে।