“সঠিক পরিচর্যায় প্রতিটি সন্তান দেশের অমূল্য সম্পদে পরিণত হতে পারে” ডিসি রাঙামাটি


অহিদুল ইসলাম অভি    |    ১০:১৪ পিএম, ২০২৫-০৯-০৪

“সঠিক পরিচর্যায় প্রতিটি সন্তান দেশের অমূল্য সম্পদে পরিণত হতে পারে” ডিসি রাঙামাটি

“অভাব-অনটনকে জীবনের প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং শক্তির উৎস হিসেবে কাজে লাগাতে হবে”—এমন প্রেরণাদায়ী বার্তা দিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ মারুফ। তিনি বলেছেন, ধনী পরিবারের সন্তানরা সবসময় সফল হয় না। সঠিক যত্ন, পাহারা ও পরিচর্যার মাধ্যমে প্রতিটি সন্তান দেশের অমূল্য সম্পদে পরিণত হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটির শহীদ আব্দুল আলী একাডেমীর হলরুমে অনুষ্ঠিত মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে অভিভাবক-শিক্ষক-প্রশাসন সমন্বিত ত্রিপক্ষীয় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

ডিসি জানান, জেলার ১০০টিরও বেশি স্কুলে ইতোমধ্যে মানসম্মত শিক্ষা প্র্যাকটিস কার্যক্রম চলছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কোথায় প্রতিবন্ধকতা আছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন স্বপ্নপূরণে ব্যর্থ না হয়, এজন্য প্রশাসন, শিক্ষক এবং অভিভাবক—এই তিন পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উদ্যোগ সফল হতে পারে না।

বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক দুঃখ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন, সাবেক এসডিও ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ এম এ আলীর নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি এখনো সরকারীকরণ হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী দ্রুত সরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল চালু ও মেধাভিত্তিক ভরণপোষণ বৃত্তি প্রদানের পরিকল্পনার কথাও জানান।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “অভাব কোনো দুর্বলতা নয়। অভাব মানুষকে সংগ্রামী করে তোলে, পরিশ্রমী করে তোলে। অভিভাবকরা যদি শিক্ষার প্রতিটি ধাপে সন্তানদের পাশে থাকেন, তবে তারাই একদিন এই দেশের অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন শহীদ আব্দুল আলী একাডেমীর প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জোবাইদা আক্তার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত আসমা, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, অভিভাবক প্রতিনিধি মো. নুরুল আমিন ও পারভিন আক্তার। এসময় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মৈত্রী রায়ও উপস্থিত ছিলেন।