পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী(সা:) উপলক্ষে রাঙামাটি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের নানান আয়োজন


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১০:৩৮ পিএম, ২০২৪-০৯-১৬

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী(সা:) উপলক্ষে রাঙামাটি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের নানান আয়োজন

পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষে রাঙ্গামাটি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও অবৈতনিক প্রিন্সিপাল এ, বি, এম তোফায়েল উদ্দিনের সভাপতিত্বে সকাল ১০ টা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের ক”গ্রুপ ও খ”গ্রুপে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর থেকে হৃদয় হোসেন কর্তৃক পবিত্র কুরআন তেওয়াত ও জাইরিন সুলতানা কর্তৃক নাতে রাসুল (সাঃ) এর পরিবেশনার মাধ্যমে সভার কাজ শুরু হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম থেকে আগত সামাজিক সংগঠন যোগাযোগের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ও দৈনিক ইভিনিং এর চট্টগ্রাম ব্যুারো চীফ এস, এম কামরুল ইসলাম।

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক রাঙ্গামাটি পত্রিকার সম্পাদক ও রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারী আনোয়ার আল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট্য আইনজীবি এডভোকেট মোঃ জিল্লুর রাহমান, হাসান মোঃ আরমান, আবুল কালাম আজাদ বিন হাসান ও মোঃ সোহেল রানা। 

আলোচনা সভার বিশেষ আকর্ষন ছিল মডেল স্কুলের ৩ জন প্রতিবন্ধি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে যোগাযোগ এর পক্ষ থেকে নগদ টাকা প্রদান করা হয়। তারা হলো ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র মোহন মল্লিক, ১০ম শ্রেনীর ছাত্র মোঃ জামিল ও ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী জুবাইরা তাসনিম।

পরে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ করা হয়। ক গ্রুপ=সুমাইয়া আক্তার মারিয়া ও জান্নাতুল ফেরদৌস মাওয়া এবং খ গ্রুপ=জাইরিন সুলতানা, শাকিল আহম্মদ হৃদয়, সাফিয়া আফরিন এবং জুবাইরা তাসনিম ও মোঃ জামিল। পরে তাবাররুক বিতরণের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়। 

সভাপতির বক্তব্যে এম এ তোফায়েল উদ্দিন বলেন নবীজীর (সা.) জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা এবং তা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরী। তার চারিত্রিক গুণাবলি, ধৈর্য, দয়া, সততা ইত্যাদি আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা উচিত। ঈদে মিলাদুন্নবীতে নবীজীর (সা.) সীরাত নিয়ে আলোচনা এবং তা চর্চা করা আমাদের অন্যতম করণীয়। ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষার প্রচার ও প্রসার করা উচিত।

নবীজীর (সা.) জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে তা পরিবার, সমাজ এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। ইসলাম মানবজাতির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা এবং তা প্রচার করা সবার করণীয়। নবীজী (সা.) সব সময় দান-সদকা এবং সমাজের দরিদ্র ও অসহায়দের সাহায্য করার ওপর জোর দিয়েছেন,তাই যোগাযোগ সংস্থা আমাদের ছাত্রদের যে সহযোগিতা তা স্বরণীয় হয়ে থাকবে, ভবিষ্যতে যেন ছাত্র-ছাত্রী এবং প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন দরিদ্রদের সাহায্য করা, তাদের প্রয়োজন মেটানো এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ করা একটি উত্তম করণীয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছাত্রদের উদ্যেশ্য করে আজকে মহান দিবসের উপর গুরুত্ব দিয়ে তোমাদের জীবনে নবীজীর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সমাজকে আলোকিত করার আহ্বান জানান, তিনি বলেন তোমরা যদি পড়ালেখার মনোযোগী হও তাহলে তোমাদের নিয়ে "যোগাযোগ "আগামীতে আরো সুন্দর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তোমাদেরকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা তার বক্তব্যে এই যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন ভবিষ্যতে ছাত্রদের পাশে থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন রাসূল সাঃ তোমাদের মত ছোটদেরকে অনেক বেশি ভাল বাসতেন। আল্লাহর রাসুল ছোটদের অত্যন্ত গ্রহণ যোগ্য আদর্শ রাসুল। তিনি আরো বলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসা ইমানের পূর্বশর্ত। ভালোবাসা প্রকাশ পায় নির্দেশ পালন ও অনুকরণের মাধ্যমে। কুরআন মাজিদে বলা হয়েছে- (হে রাসুল সা.!) বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসতে চাও, তবে আমার অনুসরণ করো; (তাহলে) আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন (সুরা-আলে ইমরান আয়াত: ৩১)।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট জিল্লুর রাহমান বলেন অশান্ত বিশ্বকে শান্তির ছায়াতলে আনতে হলে চাই বিশ্বনবীর আদর্শ অনুসরণ। নবীজি সাঃ এর আদর্শ ও শিক্ষা অনুসরণের ফলেই আমরা পেতে পারি মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি। কেননা এর মাঝেই রয়েছে সর্বপ্রকার কল্যাণ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাসান আরমান বলেন রাঙ্গামাটির বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আপদে বিপদে এবং বিশেষ করে ছাত্রদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ ছাত্রদের উদ্দেশ্যে করে বলেন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পথ অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.) যা যা করতে বলেছেন, তা করতে হবে, আর যা করতে বারণ করেছেন, তা বর্জন করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের ঘোষণা- রাসুল (সাধারণ) তোমাদের যা দেন, তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকো। তিনি আরো বলেন প্রিয় নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘তোমরা কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মুমিন হবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা-পুত্র ও যাবতীয় সবকিছুর চেয়ে প্রিয় হব (বুখারি)।