রাঙামাটিতে হিজাব নিয়ে কটুক্তিকারি শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিসিকে স্মারকলিপি


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১১:৪৭ পিএম, ২০২৩-০৯-০৩

রাঙামাটিতে হিজাব নিয়ে কটুক্তিকারি শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিসিকে স্মারকলিপি

রাঙামাটি শহরের রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের মুসলিম শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রেণী শিক্ষিকা দিপালী দেওয়ান কর্তৃক হিজাব পড়তে হলে স্কুলে নয়, মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার’ কটুক্তিমূলক সাম্প্রদায়িক উষ্কানীর ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট্য সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাকে বিদ্যালয় থেকে অপসারনের প্রতিবাদে রাঙামাটির জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছে অভিভাবকরা। 

রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসক মোঃ মোশারফ হোসেন এর সাথে সাক্ষাত করে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। অভিভাবক রোকেয়া বেগম, জরিনা আক্তার, পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ রাঙামাটি জেলার সভাপতি মোহাম্মদ হাবিব আজম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, পৌর সভাপতি পারভেজ মোশাররফ হোসেনসহ অন্যান্য অভিভাবকগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন। 

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ স্মার্টগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় সভ্য আধুনিক যুগে রাঙামাটি জেলা শহরের এক শিক্ষাকার ধর্ম বিরোধী এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক কর্মকান্ডে ক্ষুব্দ ও ব্যথিত স্কুলটির শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।

অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্ম বিরোধী উস্কানি হিসেবে “হিজাব পড়লে স্কুলে নয়, মাদ্রাসায় ভর্তি হও” ছাত্রীদের এমন নির্দেশনা দিলেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জাতিসত্তার শিক্ষিকা দিপালী দেওয়ান। এমন নির্দেশনা দিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে আঘাত দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাইছেন দিপালী দেওয়ান। 

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলা হচ্ছে সম্প্রীতির নিদর্শন। এই জেলার প্রাণ কেন্দ্রে মূল শহরের একটি স্কুলে শিক্ষকদের এই ধরণের বিদ্বেষ মূলক মনোভাব নিয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করানো সম্ভব না।

এতোদিন শিক্ষার্থীরা ভয়ের কারণে মুখ খুলতে পারেনি। এখন মুখ খুলেছে এই জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা। এইসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্কুল থেকে স্থায়ী বহিস্কার করার জোর দাবি জানাচ্ছি আমরা অভিভাবক মহল।

আমাদের দাবী সকল ধরণের বৈষম্যের উর্দ্ধে উঠে শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন। অন্যথায় আমরা গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্লাস বর্জন, মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ তীব্র আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করবো।