রাঙামাটিতে অটোরিক্সা সমিতির নেতৃবৃন্দের দুর্নীতিতে যুগ্ম সম্পাদকের অব্যাহতি পত্র!


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০১:৪৫ এএম, ২০২৩-০৮-২১

রাঙামাটিতে অটোরিক্সা সমিতির নেতৃবৃন্দের দুর্নীতিতে যুগ্ম সম্পাদকের অব্যাহতি পত্র!

দেশের অন্যতম পর্যটন শহর পার্বত্য রাঙামাটি শহরের একমাত্র যাত্রীবাহি বাহন অটোরিক্সা। এই অটোরিক্সা চালকদের সর্ববৃহৎ সংগঠন রাঙামাটি জেলা অটারিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান কার্যকরি কমিটির নানা অনিয়ম নিয়ে অভিযোগের যেন শেষ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে এই সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের মধ্যে প্রায় কয়েক শতাধিক সদস্য কর্তৃক সমিতির কার্যালয় ঘেরাওয়ের পাশাপাশি বর্তমান নেতৃবৃন্দকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ এনে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রাখার পাশাপাশি ব্যাপক বিক্ষোভের মধ্যে জনরোষ থেকে রক্ষায় পুলিশের সাহায্যও নিতে হয়েছে নেতাদের।

অবশেষে দীর্ঘ কয়েকদিনের বিক্ষোভের মুখে বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দ নিজেদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে লিখিতভাবে অঙ্গীকারনামা প্রদান করে এবং সমিতির একাউন্টে টাকা ফেরৎ দেওয়ার আশ^াসসহ সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহেই সাধারণ সভার প্রতিশ্রুতি দিলে, রাঙামাটি সদর সার্কেলের এডিশনাল এসপি জাহেদুল ইসলামের আশ^াসের প্রেক্ষিতে আন্দোলনরত চালকরা শান্ত হয় এবং তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নেয়। 

এদিকে চলমান এই আন্দোলন কর্মসূচীর মধ্যেই রোববার রাঙামাটি জেলা অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের বর্তমান পরিষদের যুগ্ন সম্পাদক বেলাল হোসেন তার স্বীয় পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষনা দিয়েছেন।

রোববার দুপুরে ডাক বিভাগের মাধ্যমে অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি/সাধারন সম্পাদক বরাবরে প্রেরিত পদত্যাগ পত্রে বেলাল নিজেই উল্লেখ করেন, বিগত ১৫/০১/২০২২ ইং তারিখে অত্র সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে আমি যুগ্ন সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হই।

বর্তমানে অত্র সংগঠনের নিরীহ চালক শ্রমিকদের স্বার্থ বিরোধী বিভিন্ন কার্যকলাপসহ আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়। যাহা শ্রমিকদের স্বার্থে উন্নয়ন বা সাংগঠনিক সুষ্ট-সুন্দরভাবে পরিচালনায় বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। 

শ্রমিকদের স্বার্থে উন্নয়ন বা সাংগঠনিক কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে পরিচালনায় বাধাঁগ্রস্থ হওয়া ও আর্থিক অনিয়ম দুর্নীতি অব্যাহত থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি পরেশ মজুমদারের নেতৃত্বাধীন কমিটির যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা বেলাল হোসেন। 

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, আমি কারো দুর্নীতির ভাগিদার হইনি, তিনি বলেন, সম্পূর্ন আমাদের অগোচরে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ মিলে সকল অপকর্ম সম্পাদন করেছে।

আমাদেরকে না জানিয়েই তারা সমিতির জায়গা ক্রয় করেছে এবং ব্যাংক থেকে সাধারণ সদস্যদের মৃত্যু ফান্ডের টাকাগুলো তুলে ফেলেছে। বেলাল জানান, আমি কারো প্ররোচনা বা হুমকিতে পদত্যাগ করছিনা। নিজের সম্মান বাঁচাতে সাধারণ সদস্যদের অধিকারের কথা চিন্তা করে অব্যাহতি নিয়েছি। 

এদিকে জানাগেছে, সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ কর্তৃক সাধারণ অটোরিক্সা চালকদের ঘাম ঝরানো অর্থ লুটপাটের বিষয়টি অনেকটা খোলাসা হয়ে উঠছে সাম্প্রতিক সময়ে। তাই বদনাম থেকে নিজেদের রক্ষায় বর্তমান কমিটির আরো বেশ কয়েকজন খুব শীঘ্রই তাদের পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।