রাঙামাটিতে সিএনজি সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে জমি ক্রয়ের নামে অর্থ লোপাটের অভিযোগ!


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৫:৩৫ পিএম, ২০২৩-০৮-০১

রাঙামাটিতে সিএনজি সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে জমি ক্রয়ের নামে অর্থ লোপাটের অভিযোগ!

রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে রাঙামাটি জেলা অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন ও চালক কল্যাণ সমিতির নামে জায়গা/জমি ক্রয়ে অর্থ লুটপাট/নয়-ছয়ের অভিযোগ করেছে সংগঠনটির চালক সদস্যরা। এনিয়ে বিক্ষুব্ধ চালকরা সোমবার রাতে সমিতির কার্যালয়ে নেতৃবৃন্দকে ব্যাপক বিক্ষোভ করে। 

রাঙামাটি জেলা অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন ও চালক কল্যাণ সমিতির সভাপতি পরেশ মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কার্য্যকরি পরিষদের বিরুদ্ধে প্রার্ন্তিক এলাকার দুর্গম পাহাড়ে ক্রয়কৃত বর্তমান জমির মূল্যের ৪ গুণ বেশি দামে জায়গা/জমি ক্রয়ের এই অভিযোগ তুলেছেন সমিতির সাধারণ সদস্যরা। 

সমিতির সাধারণ সদস্য ও সাবেক নেতৃবৃন্দরা অভিযোগ করছেন, প্রান্তিক এলাকার দুর্গম পাহাড়ে জায়গা/জমি ক্রয়ের নামে সমিতির ফান্ডের অর্থ লুটপাটের চেষ্টা করছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কার্য্যকরি পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।

জমি ক্রয়কে কেন্দ্র করে সোমবার (৩১ জুলাই) সন্ধা ৭টায় সমিতির অফিসে সাধারণ সদস্য ও চালকেরা পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দেন। একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। এসময় জমি ক্রয়ের বিরুদ্ধে সদস্যরা নানান শ্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে অফিসে ব্যাপক হট্টগোল করতে দেখা যায়। এসময় সমিতির কার্যালয়ে সাধারণ সম্পাদকসহ কার্য্যকরি পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। 

সমিতির সাধারণ সদস্য (অটোরিক্সা চালক) ও সাবেক নেতৃবৃন্দরা অভিযোগ করেন, কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে রাঙামাটি জেলা অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন ও চালক কল্যাণ সমিতির নামে যে জায়গা/জমিটি ক্রয় করা হয়েছে তা অত্যন্ত নি¤œ-মানের। এ জমিটি সমিতির কোন কাজে আসবে না। ঐ জমি থেকে কোন আয়ের উৎস হবে না। জমিটির ক্রয় মূল্য বর্তমান মূল্যেও চেয়ে ৪গুণ বেশি দিয়ে ক্রয় করা হয়েছে।

সাধারণ সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, নেতৃবৃন্দরা ৩৫ লক্ষ টাকা দিয়ে ২একর জমি ক্রয় করেছেন কিন্তু জমি ক্রয়ের নামে সমিতির ফান্ড থেকে ৮৫ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছেন। যে জায়গায় জমি ক্রয় করা হয়েছে সেখানে বর্তমান জমির মূল্য ৮-১০ লক্ষ টাকা একর। কিন্তু সভাপতির নেতৃত্বে কার্য্যকরি পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা সমিতির সাধারণ সদস্যদের অগচরে জমি ক্রয় করেছেন ৩৫ লক্ষ টাকা দিয়ে। এখন বলা হচ্ছে জমি ক্রয় করা হয়েছে ৮৫ লক্ষ টাকা দিয়ে। মূলত জমি ক্রয়ের নামে অর্থ লুটপাটের চেষ্টা করছে নেতৃবৃন্দ।  

সাধারণ সদস্যরা আরো জানান, কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে গহীন অরণ্যে জমির প্রয়োজন নেই। এখানে থেকে সমিতির কোন আয় হবে না। টাকাগুলো ফেরত নিয়ে রাঙামাটি শহরে জমি কেনার পক্ষে মত দেন অথবা জমির টাকাগুলো ব্যাংকে রাখার জন্য সমিতির সদস্যরা দাবি জানান।  

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সংগঠনটির সভাপতি পরেশ মজুমদার জানিয়েছেন, সমিতির নির্বাচনে হেরে তার বিপক্ষের লোকজন বিষয়টি নিয়ে মিথ্যাচার করছে। তিনি বলেন, জমিটি ৮৫ লাখ টাকা দিয়েই কেনা হয়েছে এবং সমিতি কর্তৃক গঠন করা জমি ক্রয় করা কমিটির মাধ্যমেই ক্রয় করা হয়েছে। এতে করে কোনো ধরনের দূর্নীতি করা হয়নি। 

এদিকে এই বিষয়ে বুধবার সংক্ষুব্ধদের সাথে নিয়ে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চালক সমিতির নেতৃবৃন্দ। 

বিক্ষোভের ভিডিও চিত্র দেখতে ভিজিট করুন chttimes24.com এর ফেসবুক পেইজে