সেতুর অভাবে পানিবন্দি চার গ্রামের মানুষের দূর্ভোগ চরমে


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১১:৩৩ এএম, ২০২২-১১-০৫

সেতুর অভাবে পানিবন্দি চার গ্রামের মানুষের দূর্ভোগ চরমে

গোলামুর রহমান-লংগদু

রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ৪নং বগাচতর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের চারটি গ্রামই কাপ্তাই হ্রদে বেষ্টিত। যার ফলে গ্রামগুলোর হাজারো মানুষকে নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে স্কুল, মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। আর তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সেতু নিমার্ণের দাবি জানিয়েছেন চার গ্রামের মানুষ।

 জানা গেছে, এই ইউনিয়নের মুসলিম ব্লক, অফিসটিলা, ফজলে শিবির এবং পেটাইন্নামার ছড়া  গ্রাম গুলোতে প্রায় দুই হাজার মানুষ বসবাস করেন। চার গ্রামের অপর প্রান্তে  রয়েছে একটি বাজার, নুরানী মাদরাসা এবং উগলছড়ি মহাজনপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু গ্রামগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কোনো ব্রিজ বা রাস্তা নেই। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হয়ে প্রতিদিন স্কুল-মাদরাসায় যেতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। বছর খানেক আগে এই হ্রদে নৌকা ডুবে দুইজন শিক্ষার্থীও মারা গেছেন। 

ইউনিয়নের উগলছড়ি মহাজন পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা বলেন, আমরা প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাপ্তাই হ্রদ পার হয়ে গ্রাম থেকে স্কুলে যাই। এই নদী পারাপারের জন্য যদি ব্রিজ হয় তাহলে আমাদের জন্য খুবই সুবিধা হয়। 

নৌকায় করে স্কুলে যাতায়াত করতে ভয় লাগে। অনেক অসুবিধাও হয়। একটি সেতু হলে আমরা খুবই উপকৃত হবো। এখানে নৌকা ডুবে গত বছরও একজন মারা গেছে। আমাদের দাবী একটি সেতু যেনো হয়।

বগাচতর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন,‘মুসলিম ব্লক অফিসটিলা, ফজলে শিবির এবং পেডাইন্নামার ছড়া এই চার গ্রাম হ্রদে বেষ্টিত। ফলে এই গ্রামগুলো ইউয়নিয়ন সদর থেকে বিচ্ছিন্ন। একটি ব্রিজ না থাকার ফলে এখানকার গ্রামবাসীদের অত্যন্ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকারের কাছে দাবি এই এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে তারা যেন দ্রুত সময়ে মধ্যে একটি ব্রিজ নির্মাণ করে দেন।’ 

বগাচতর বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিদিন নৌকা দিয়ে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। একবার নদী পার হতে সময় লাগে প্রায় ৩০ মিনিটি। বিশেষ করে রাতের বেলায় আমাদের খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় ঘাটে নৌকা না পেলে রাতে বাসায় যাওয়া হয়না।

বগাচতর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বশর বলেন, এই এলাকার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনই নৌকায় করে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। এই চারটি গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে হ্রদ পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। এতে করে তাদের যাতায়াতের অসুবিধা হয়। একটি সেতু নির্মিত হলে গ্রামের মানুষের সাথে ইউপি সদরের সড়ক যোগাযোগ বাড়বে। এলাকার সাধারণ মানুষ খুবই লাভবান হবে। এলাকাবাসীর যাতায়াতের পথ সুগম করতে পার্বত্য জেলা পরিষদ  কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সেতু  নিমার্ণের দাবি জানিয়েছি।