নুরুল কবির | ১১:৪২ পিএম, ২০২০-০৮-৩০
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে তিন বছর আগে। এখনো কাজ শেষ হয়নি। কাজের মানও ত্রুটিপূর্ণ। গণপূর্ত বিভাগ বলছে দ্রুত কাজ শেষ করে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তবে কখন নাগাদ এই সময় শেষ হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি। বান্দরবানের দূর্গম থানচি ও রুমা উপজেলায় নির্মিতব্য ফায়ার সার্ভিস দুটির এই অবস্থা। ২০১৭ সালে কাজ শুরু হয়ে এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য কার্যাদেশে বলা হলেও প্রকৌশলী ও সংশিষ্ট ঠিকাদারের খামখেয়ালীপনার কারনে দূর্গম এলাকার এই দুটি ফায়ার সার্ভিসের কাজ চলেছে কচ্ছপ গতিতে এমনটি দাবী স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে থানচি উপজেলায় জনসংখ্যা প্রায় ২৮হাজার এবং রুমা উপজেলায় ৩১হাজার। প্রায় সময় এখানে অগ্নিদূর্ঘটনা ঘটে। দূর্গম এলাকা হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও থাকে বেশি। এরই প্রেক্ষিতে পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি দুই উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস নির্মাণের উদ্যোগ নেন। থানচি ও রুমা উপজেলায় প্রত্যেক ফায়ার সার্ভিস নির্মাণের জন্য বরাদ্ধ ব্যয় ধরা হয় ২কোটি ৫৯লাখ টাকা। কিন্তু গনপূর্ত বিভাগ দরপত্র আহ্বান করে ২কোটি ৮৩লাখ টাকায়। পরে তারা ২৪লাখ টাকা ব্যয়সহ প্রাক্কালিত ব্যয় সংশোধনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে। এখনো সম্পূর্ণ কাজ শেষ না হলেও অধিকাংশ বিল ঠিকাদারকে প্রদান করেছে গণপূর্ত বিভাগ।
তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ফারুক আহমদ চৌধুরী বলেন, আর্থিক বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ করা যাচ্ছে না। তিনি ধারদেনা করে কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন বলে দাবী করেন। কখন নাগাদ কাজ শেষ হবে সেই প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারেননি ঠিকাদার। তিনি আরো বলেন নতুন বরাদ্দ পেলে বাকি কাজগুলো করা হবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সহকারী পরিচালক মো: কামাল উদ্দীন ভূইয়া বলেন, দেশে চলমান ১৫৬টি ফায়ার স্টেশনের ন্যায় রুমা ও থানচি উপজেলার দুটি নির্মাণ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে তিন বছর হলো। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি গত সপ্তাহে সচিব কমিটির বৈঠক হয়েছে এখন একনেকে যাবে। সংশোধনের পর কাজ শুরু হবে। দুটি ফায়ার স্টেশনের কাজ ১০ পার্সেন্ট বাকি রয়েছে দাবী এই কর্মকর্তার।
তবে সিডিউল অনুযায়ী নির্মিতব্য দুটি ফায়ার সার্ভিসে আনুসাঙ্গিক ফিটিংস এর অনেক কাজ করা হয়নি। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের নির্মাণ কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে স্থানীয়দের।
বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী স্বপন কুমার দাশ বলেন, ২০১১ সালে প্রণীত প্রকল্পে ২০১৭ সালে অবকাঠামো নির্মাণের দরপত্রে স্বাভাবিকভাবে ব্যয় বাড়াতে হয়েছে। সারাদেশের নির্মাণাধীন ফায়ার সার্ভিসগুলো থেকে বর্ধিত ব্যয়ের সংশোধিত প্রস্তাব পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হবে। এজন্য কখন অনুমোদন পাওয়া যাবে, নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বান্দরবানের কয়েকজন ঠিকাদার জানান, বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগে ঘুরে ফিরে কাজ পাচ্ছে রয়েল এসোসিয়েট লাইন্সেস ঠিকাদার ফারুক আহমদসহ গুটিকয়েক ব্যক্তি। ই-টেন্ডারের আইনি মারপ্যাঁচে ঘুরেফিরে তারা কাজ ভাগিয়ে নিচ্ছেন। ইতি মধ্যে রয়েল এসোসিয়েট লাইন্সেস নামে বান্দরবান জেলায় প্রায় ৩০-৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ চলমান রয়েছে। ফলে সরকারি উন্নয়ন কাজে যেমন স্বচ্ছতার অভাব থাকছে তেমনি একই প্রকল্প বারবার সংশোধন হচ্ছে। অফিস ম্যানেজের সুযোগে প্রতিষ্ঠান বাড়াচ্ছে প্রকল্প ব্যয়।
সচেতন নাগরিকদের মতে, একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বেশি কাজ পাওয়ায় সময়মতো কাজ শেষ হয় না।
উল্লেখ্য, দুর্গম থানচি উপজেলায় ফায়ার স্টেশন না থাকায় গত ২৭ এপ্রিল ভয়াবহ আগুনে থানচি বাজার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
অহিদুল ইসলাম অভি : রাঙামাটিতে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)-এর উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের বর্তমান ও সাবেক নিব...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : বাংলার কাশ্মীর’খ্যাত পার্বত্য রাঙামাটির পাহাড়, হ্রদ আর ঝরনার নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে দিন দিন ব...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজন, মাদক কারবারের অভি...বিস্তারিত
নাজিম আল হাসান : আসন্ন ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কাপ্তাই উপজেলার ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়নে...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মানিকছড়ি মুন্সি আব্দুর রউফ চত্বরের উপরে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে র...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : একদিকে পর্যটকের ভিড়, অন্যদিকে ব্যস্ত সড়ক ও বাণিজ্যিক এলাকায় নানা ধরনের অপরাধের ঝুঁকি; এমন বাস্তবত...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited