নাম্বারবিহীন বেপরোয়া অটোরিক্সার ধাক্কায় ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ০৫:০৮ এএম, ২০২১-০৫-২৮

নাম্বারবিহীন বেপরোয়া অটোরিক্সার ধাক্কায় ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

রাঙামাটির প্রবেশমুখ মানিকছড়িস্থ বাবার বাড়ি থেকে রানীরহাটের মগাছড়ির নানার বাড়িতে বেড়ানো শেষে নানীর সাথে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে বেপরোয়া চলন্ত অটোরিক্সার ধাক্কায় নির্মমভাবে নিহত হয়েছে চার বছরের শিশু ওসমান। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে মগাছড়ি এলাকায় নির্মম এই ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দুপুরে। ঘটনার পরপরই মুমুর্ষ অবস্থায় শিশু ওসমানকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় জড়িত নাম্বার বিহীন অটোরিক্সাটি আটক করতে পারলেও এর চালক পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানা  পুলিশ। সদা হাস্যোজ¦ল এই শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো স্বজনদের বাড়িসহ পুরো মানিকছড়ি এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। অটোরিক্সাটি রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি এলাকার বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে। 

নিহত শিশুটির পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ঈদ পরবর্তী সময়ে মানিকছড়ির নিজ বাসা থেকে নানুর সাথে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলো মোঃ আজমের বড় সন্তান চার বছর বয়সী ওসমান। সেখানে বেড়িয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মানিকছড়ি আসার উদ্দেশ্যে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের মগাছড়ি এলাকায় নানির হাত ধরে অপেক্ষমান ছিলো শিশু ওসমান।

এসময় রাঙামাটিমুখী নাম্বারবিহীন দ্রুতগতির একটি সিএনজি অটোরিক্সা ওসমানকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার সাথে অন্তত ২০ হাত হেঁচড়ে নিয়ে যায়। এতে রাস্তার সাথে অটোরিক্সার চাপায় ছোট্ট ওসমানের শরীর প্রায় থেতলে গিয়ে শিশুটি গুরুত্বর আহত হয়।

সাথে সাথেই তাকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এসময় শিশুটির পরিবারের সদস্যদের কান্নায় চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।

খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সিএনজি অটোরিক্সাটি আটক করতে পারলেও চালক পালিয়ে যায়। এদিকে জানাগেছে, মৃত শিশুটির পিতা-মাতা শিশুটিকে ময়নাতদন্ত না করতে চাইলে এবং বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে শিশুটিকে নিজেরা নিয়ে গেছে।

কোতয়ালী থানার এসআই অরূপ ও এসআই ওসমান রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির সুরতহাল করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহটি বুঝিয়ে দেন।