৩৪ হাজার টাকা লোকেল সাপোর্ট না পেলে ঘর করে দেয়া যাবেনা!


থানচি প্রতিনিধি    |    ০১:২৩ পিএম, ২০২১-০১-০৪

৩৪ হাজার টাকা লোকেল সাপোর্ট না পেলে ঘর করে দেয়া যাবেনা!

মোরা হত দরিদ্র পাহাড়ী ভূমিহীন ও গ্রহহীন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বিশেষ উপহার বিনা খরচে  ভূমিহীনদের ঘর তৈরী করে দেয়া শুনে আমরা খুবই আনন্দিত ও খুশী । কিন্তু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ তারিকুল ইসলাম, তার অফিস সহযোগী মোঃ কবীরুল ও ঠিকাদার মামুন আমাদের হইতে লোকেল সাপোর্ট হিসেবে প্রতি ঘরের ৩৪ হাজার টাকা চেয়েছেন ।

লোকেল সাপোর্ট না দিলে ঘর তৈরী করবেন না বলে প্রকাশ্যে ঘোষনা করা হয়েছে বলে টকবকে সাংবাদিকদের  প্রশ্ন ছুইয়ে বললেন বান্দরবানে থানচি উপজেলা বলিপাড়া ইউনিয়নের  ৩ নং ওয়ার্ডে হাইলমারা ও বাগান পাড়া বাসিন্দা ও বলিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা এর বড় ভাই মংওয়াংশৈ মারমা, মংফোসু মারমা,দুঃফ মারমাসহ ১৪ পরিবারের প্রধানরা । ইতিমধ্যে ঠিকাদার মামুনকে আমরা ১৫ হাজার টাকা করে দিয়ে দিয়েছি ।

 হাইলমারা পাড়া ও বাগান পাড়াবাসীদের নগদ টাকা নেয়ার অভিযোগটি সত্যতা জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন,প্রতি ঘরে মোট ৩৪ হাজার টাকা লোকেল সাপোর্ট না পেলে ঘর করে দেয়া যাবেনা ডিসেম্বর মাসের উপজেলা  মাসিক সমন্বয় সভায় চুড়ান্ত সিন্ধান্ত হয়েছে। তিনি আর ও বলেন মাসিক সমন্বয় সভা সিন্ধান্ত মোতাবেক বান্দরবানে ঠিকাদার মোঃ মামুনকে ঘর নির্মানে মৌখিক কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে । চলতি অর্থ বছরে ২৮৪টি ঘর নির্মানে চলতি ডিসেম্বরের ৫০টি ঘর নির্মান করা হবে এবং ক্রমন্বয়ে সকলকে দেয়া হবে ।  

জানা যায়, দেশব্যাপী আশ্রয়ন প্রকল্প ২ এর আওতায় প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ উপহার বিনা খরচে ভূমিহীন অসহায় হতদরিদ্রদের গৃহহীনদের জন্য  ২টি স্বয়ন কক্ষ বিশিষ্ট রান্না ঘর টয়লেট পরিবহন খরচ সহ আধা পাক্কা ঘর নির্মানের সরকারের পক্ষে ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে । থানচি উপজেলায় ২০২০-২১ সালে থানচি সদর ও বলিপাড়া ইউনিয়নের ২৮৪ পরিবারকে ঘর নির্মানের তালিকা অন্তর্ভূক্তি করে সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনারয়ের অনুমোদন দেন।  বরাদ্ধকৃত অর্থ উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী অফিসার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সমন্বয়ের সরাসরি গৃহায়ন প্রকল্পের  ঘর নির্মানের পূর্ণবাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ থাকলে ও সংশ্লিষ্টরা তা মানা হচ্ছে না  বিনা বিজ্ঞপ্তিতে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে । 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতাউল গনি ওসমান সাংবাদিকদের বলেন,বরাদ্ধনুসারের অত্র উপজেলা ঘর তৈরী করার সম্ভব নয় বিষয়টি মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানানো হয়েছে । ভূমিহীনদের নিকট থেকে লোকেল সাপোর্ট বিষয়ের তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে । তিনি আরও বলেন ডিসেম্বর মাসের মাসিক সমন্বয় সভা পরে যোগদান করেছি।  

থানচি সদর ইউনিয়নের ওয়াক চাক্কু পাড়া বাসিন্দা রেংয়েন ম্রো ৬০ ,মেনবাং ৩০,ঙায়ং ¤্রাে৪৫, জানান  মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে বিনা খরচে ঘর তৈরী করে দিচ্ছে শুনে আমরা অনেক আনন্দ খুশী হয়েছি কিন্তু আমাদের পাড়ায় ৫ পরিবার হতে লোকেল কন্টিবেশন হিসেবে ঠিকাদারকে ৩০-৩৫ হাজার টাকা মূল্যে বিভিন্ন খাদ্য দ্রব্য,কাঠ বালির সিমেন্ট পানির বাবৎ ক্রয় করে দিতে হয়েছে । ২০১৯-২০সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধান মন্ত্রী বিশেষ উপহার গৃহায়ন প্রকল্প-১ পর্যায়ের থানচি উপজেলা  ১৫ পরিবারকেও ৪০-৪৫ হাজার করে লোকেল কন্টিবেশন দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

দেশব্যাপী প্রধান মন্ত্রী বিশেষ উপহার গৃহায়ন কর্মসূচী আওতায় থানচি উপজেলা ২০১৯-২০ সালে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে ১১ পরিবারকে ঘর নির্মান করা হয়েছে । টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ছাড়া ১৫ পরিবারকে ঘর নির্মান করা হলেও সংশ্লিষ্টরা  কোন প্রকার সাংবাদিক ও সুশিল সমাজের লোকজন উপস্থিতিতে ঘর হস্তান্ত করা হয়নি । দেশের বিভিন্ন উপজেলা জেলা পর্যায়ের ঘর হস্তান্ত করা হলে কেঁচো খুড়তে থলে বিড়াল বেড়িয়ে আসবে বলে অনুষ্ঠানিক ঘর হস্তান্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।  

উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি থোয়াইহ্লামং মারমা সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান মন্ত্রী বিশেষ উপহার গৃহায়ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের নিকট লোকেল কন্টিবেশন নগদ টাকা দিতে হচ্ছে সেটি আমার জানান নেই । তবে পিআইও বক্তব্য সঠিক নয় বলে জানান তিনি ।