শেকলে বেধে ইটভাটায় শ্রমিক নির্যাতন;কাউখালীতে ভাটা মালিক গ্রেফতার


নিজস্ব প্রতিবেদক    |    ১০:৪৫ পিএম, ২০২০-১২-২৭

শেকলে বেধে ইটভাটায় শ্রমিক নির্যাতন;কাউখালীতে ভাটা মালিক গ্রেফতার

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলাধীন তারাবুনিয়া এলাকায় ইটভাটা শ্রমিককে বন্দি রেখে শারিরিক নির্যাতন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে কে.এম.বি ইটভাটার মালিক ফারুককে গ্রেফতার করেছে কাউখালী থানার পুলিশ। রোববার দুপুরে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদ উল্ল্যাহ-পিপিএম। গ্রেফতারকৃত ফারুক রাঙ্গুনিয়া উপজেলাধীন জঙ্গল বগাবিলি এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, কেএমবি ইটের ভাটার মালিক মোঃ ফারুক হতে নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানা এলাকার মোঃ তারেক নামক জনৈক মাঝি ইটভাটায় শ্রমিক দেয়ার নামে ৫০ হাজার টাকা নেয়। টাকা নেয়ার পর সেখানে কিছু শ্রমিকও প্রেরন করে। সেই শ্রমিকদের সাথে জাহাঙ্গীর আলমসহ তিনজন শ্রমিক আসে ইটভাটায় কাজ করার জন্য। 

উক্ত শ্রমিকরা ইটভাটায় গত দেড়মাস যাবত কাজ করতে থাকে। নিয়মিত কাজ করতে থাকলেও কোন প্রকার টাকা পয়সা না দিয়ে মোঃ তারেক নামক জনৈক মাঝি থেকে আরো টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবী করে ইটভাটার মালিক। এসব শ্রমিকদের দিনের বেলায় ইট ভাটায় কাজ করান রাতের বেলায় ইটভাটায় শিকল দিয়ে বেধে রাখেন এবং মারধর করেন। 

খবর পেয়ে শ্রমিক জাহাঙ্গীরের খালা মুক্তা বেগম নোয়াখালী থেকে বিষয়টি নিয়ে ইটভাটার মালিক মোঃ ফারুকের সাথে মোবাইলে কথা বলেন এবং মোঃ ফারুক কয়েকদফায় বিকাশের মাধমে ৯৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এর পরেও মোঃ ফারুক তাদের কে ছেড়ে না দিয়ে পুনরায় মারধর করেন বলে জানান। 

পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরের খালা নগদ আরো কিছু টাকা নিয়ে এসে বিষয়টি নাইল্যাছড়ি পুলিশ ক্যাম্পে জানালে শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ ব্রিক ফিল্ডে অভিযান পরিচালনা করে শেকল বাধা অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কাউখালী থানায় নিয়ে আসে। শ্রমিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার দুপুরে কেএমবি ইট ভাটার মালিক  মোঃ ফারুককে পুলিশ গ্রেফতার করে। 

এ ব্যাপারে শ্রমিক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে তিনজনকে আসামী করে কাউখালী থানায় শারিরিক নির্যাতন ও চাদাবাজীর মামলা করেছে। অপর আসামীরা হলো ইট ভাটার মালিক মোঃ ফারুকের ভাগ্নে মোঃ রিদয়(২৫) ও মাঝি মোঃ তারেক (৪০) পিতা, আবুল কালাম, সাং মাইজদি, থানা সুদারাম, জেলা- নোয়াখালী। 

কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদউল্ল্যাহ পিপিএম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন গ্রেফতারকৃত ফারুককে রাঙ্গামাটির আদালদের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মোঃ ফারুকের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি ডাকাতি মামলা ও রাঙ্গুনীয়া থানায়ও বিভিন্ন প্রতারনার অভিযোগ রয়েছে বলে কাউখালী থানা পুলিশ জানিয়েছে। এই মামলায় অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদউল্ল্যাহ-পিপিএম।