নুরুল কবির | ০৩:০০ পিএম, ২০২০-১২-২৩
বান্দরবানে গণপূর্ত বিভাগে মুষ্টিমেয় ক’জন ঠিকাদার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সাধারণ ঠিকাদাররা। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যাতে বারবার উন্নয়ন কাজের কার্যাদেশ না পায় প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনাও মানা হচ্ছে না। ঠিকাদার সিন্ডিকেট টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন সরকারের কোটি কোটি টাকা।
গণপূর্ত বিভাগ ও ঠিকাদাররা জানায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বান্দরবান গণপূর্ত বিভাগে ২৬টি উন্নয়ন কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তারমধ্যে মুষ্টিমেয় কয়েকটি ছোট কাজ এলটিএম (খঞগ) উন্মুক্ত লটারি পদ্ধতিতে সকল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়। বাকি উন্নয়ন কাজ ওটিএম (ঙঞগ) এবং ওএসটিএম (ঙঝঞগ) কোটেশন পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করে কর্তাদের যোগসাজশে ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের কর্তারা পছন্দের ঠিকাদারদের উন্নয়ন কাজের নির্ধারিত দরদাম (রেইট কোড) তথ্যটি নিয়মনীতি বহির্ভূত ভাবে ফাঁস করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করছে। আর সিন্ডিকেটভুক্ত মুষ্টিমেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কোটেশনকৃত নির্ধারিত দামেই দরপত্র জমা (সিডিউল ড্রপিং) করে কাজটি ভাগিয়ে নেন।
ফলে সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্র সংগ্রহ করলেও ভাগ্যে জুটে না কোনো উন্নয়ন কাজ। অপরদিকে নির্ধারিত দরদামে কাজ পাইয়ে দেয়ার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে উন্নয়ন কাজের বিপরীতে ৪% থেকে ৮% পর্যন্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ বঞ্চিত ঠিকাদারদের। অথচ সিন্ডিকেটের বাইরের ঠিকাদাররা নির্ধারিত দামের চেয়েও কমমূল্যে উন্নয়ন কাজটি বাস্তবায়ন করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক’জন ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, সিন্ডিকেটের প্রধান হোতা হচ্ছে ঠিকাদার রোটারিয়ান মো. ফারুক চৌধুরী। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রয়েল এসোসিয়েটস, ইউটিমং, এস. অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা, মেসার্স মেরিনা কনস্ট্রাকশন, চৌধুরী ভিলাসহ বেশকয়েকটি লাইসেন্স ব্যবহার করে উন্নয়ন কাজগুলো ভাগিয়ে নেন।
২০১৯-২০ অর্থবছরে গণপূর্ত বিভাগের ২৬টি উন্নয়ন কাজের মধ্যে লাভজনক ৯টি কাজই বাস্তবায়নের কাজ করেছেন প্রভাবশালী এই ঠিকাদার। বাকি কাজগুলোর মধ্যেও বেশ কয়েকটি উন্নয়ন কাজ তার পছন্দের ব্যক্তিরা পেয়েছে। সিন্ডিকেটের বাইরে অন্যকোনো ঠিকাদার দরপত্র সংগ্রহ (কিনে) নির্ধারিত দামের চেয়ে কমদামে লেসে দরপত্র জমা দিতে চাইলে সিন্ডিকেট চক্রের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়। ভয়ভীতি দেখানো হয় কাজটি বাস্তবায়ন করে কীভাবে লাভ করবে দেখে নেয়ার।
অভিযুক্ত ঠিকাদার মো. ফারুক চৌধুরী বলেন, আমার বিরুদ্ধে ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। গণপূর্ত বিভাগে বিভিন্ন লাইসেন্সে আমার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। কাজের প্রয়োজনে অফিসের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে কথাটি সত্য। তবে অফিস ম্যানেজ সিন্ডিকেট করে কাজ ভাগিয়ে নেয়ার সঙ্গে আমি কোনো ভাবেই জড়িত নয়।
এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী স্বপন কুমার দাশ বলেন, লাইসেন্সের সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা যাচাই করার কারণে একই লাইসেন্স অনেক ক্ষেত্রে একাধিক উন্নয়ন কাজের কার্যাদেশ পায়। একই লাইসেন্সে একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছেন। সরকারি নির্দেশনা মানতে গিয়ে সেক্ষেত্রে আমাদের করার কিছুই থাকে না। তবে তথ্য ফাঁস করে দরপত্রের নির্ধারিত দাম বা রেইট কোড সিন্ডিকেট ঠিকাদারদের জানিয়ে দেয়ার ঘটনাটি আমার জানা নেই। প্রতিষ্ঠানের কেউ যদি তথ্য ফাঁসের কাজটি করে থাকেন, তাহলে সেটি অন্যায়।
অহিদুল ইসলাম অভি : রাঙামাটিতে সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা)-এর উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের বর্তমান ও সাবেক নিব...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : বাংলার কাশ্মীর’খ্যাত পার্বত্য রাঙামাটির পাহাড়, হ্রদ আর ঝরনার নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে দিন দিন ব...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজন, মাদক কারবারের অভি...বিস্তারিত
নাজিম আল হাসান : আসন্ন ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কাপ্তাই উপজেলার ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়নে...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মানিকছড়ি মুন্সি আব্দুর রউফ চত্বরের উপরে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে র...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : একদিকে পর্যটকের ভিড়, অন্যদিকে ব্যস্ত সড়ক ও বাণিজ্যিক এলাকায় নানা ধরনের অপরাধের ঝুঁকি; এমন বাস্তবত...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited