মেহেদী হাসান | ০৯:০৬ পিএম, ২০২৬-১০-২৬
রাঙামাটির সাজেকে চলমান সংকট নিরসনে দুই সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায় সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হলেও কাটেনি অচলাবস্থা। পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও চতুর্থ দফা নিয়ে মতবিরোধে আটকে গেছে আলোচনা। ফলে আপাতত প্রত্যাহার হচ্ছে না সাজেক সড়কের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে সাজেকের উজোবাজারে সরকারি প্রতিনিধি দল ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপেন দেওয়ানসহ দুই জেলার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হলেও চতুর্থ দফা বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে সমঝোতা হয়নি। এ দাবিতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের দ্রুত সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধের কথা বলা হয়েছে।
সরকারি পক্ষ এ দাবি বাস্তবায়নে আগামী ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চাইলেও আন্দোলনকারীরা মাত্র তিন দিন সময় দিতে সম্মত হন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় বৈঠক থেকে চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।
সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে এক ভিডিও বার্তায় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা বলেন, পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চলবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তাজনিত কারণে পর্যটকদের আপাতত সাজেক ভ্রমণে না আসার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, রাত ৮টার দিকে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, অবরোধকারীদের পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। একটি দাবি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় রাতের কারণে আলোচনা শেষ করা সম্ভব হয়নি। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে আবারও আলোচনা করে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। একটি বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। সেটিও সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষই শান্তি চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাজেকের সংকট নিরসনে সোমবার সকালে রাঙামাটি থেকে সরকারি প্রতিনিধি দলটি রওনা দেয়। সড়কপথের দূরত্ব ও যাতায়াতের কারণে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তারা সাজেকের উজোবাজারে পৌঁছান। এরপর আন্দোলনকারীদের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা এবং ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা শেষে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা ঘোষণা ছাড়াই সরকারি প্রতিনিধি দল ফিরে আসে।
প্রতিনিধি দলে দুই সংসদ সদস্য ছাড়াও রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, রাঙামাটির পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব, খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মোর্তোজা আলী খান এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, সাজেকের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলায় হেডম্যান ও কার্বারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান। সোমবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সভায় সাজেকের সাম্প্রতিক ঘটনা, সংকটের সূত্রপাত, আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়া এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি সাজেকের পর্যটন খাত সচল রাখা, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য বজায় রাখা এবং পরিবহনসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
সাজেকের সাম্প্রতিক ঘটনা পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণে গঠিত সার্চ কমিটির তিন সদস্য—সিএইচটি হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা এবং লংগদু উপজেলা হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা কল্যাণ মিত্র চাকমাও সভায় বক্তব্য দেন।
সাজেক সড়কে টানা পঞ্চম দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে অবরোধ। এতে পর্যটকদের প্রবেশ ও যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে পর্যটনকেন্দ্রের হোটেল-রিসোর্ট, পরিবহন ব্যবসা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত সংকট নিরসন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
এর আগে গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সাজেকের পরিস্থিতি নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয় সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত তিন সদস্যের সার্চ কমিটি কাজ শুরু করার পর সোমবার সরকারি প্রতিনিধি দল ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে জেএসএসের সন্তু লারমা গ্রুপ ও ইউপিডিএফের প্রসিত খীসা গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাতের অভিযোগ রয়েছে। সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে অবরোধ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গত ১১ ও ১৫ অক্টোবরের পর গত বৃহস্পতিবার থেকে তৃতীয় দফায় অবরোধ শুরু হয়। টানা অবরোধে সাজেকের পর্যটন, পরিবহন ও স্থানীয় জনজীবনে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সোমবারের বৈঠকে চার দফায় সমঝোতা হলেও গুরুত্বপূর্ণ একটি দাবি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় সংকটের দ্রুত সমাধান এখনো অনিশ্চিত।
মেহেদী হাসান : রাঙামাটির সাজেকে চলমান সংকট নিরসনে দুই সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায় সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দীরà...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় পাহাড়ে ঝুমখেত থেকে ধান আনতে গিয়ে বন্য শূকরের আক্রমণে হরিমনি ত্রিপুরা ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশ...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড ও কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) à...বিস্তারিত
আলমগীর মানিক : আলমগীর মানিক রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক অবরোধকারীদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ এবং à...বিস্তারিত
মনির হোসেন : রাঙামাটি পৌর এলাকার নাগরিক সেবাকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করতে ‘বিশুদ্ধ বাতাসের শহর’ নামে একটি ফেসব...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © 2026 CHTtimes24 | Developed By Muktodhara Technology Limited