“বেকারত্বকে জয় করার স্বপ্ন” পাহাড়ে তরুণদের দক্ষ করে তুলছে সেনাবাহিনী


আলমগীর মানিক    |    ০৪:৪৬ পিএম, ২০২৬-০৯-০৭

“বেকারত্বকে জয় করার স্বপ্ন” পাহাড়ে তরুণদের দক্ষ করে তুলছে সেনাবাহিনী

আলমগীর মানিক

পাহাড়ের দুর্গম জনপদে বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তরুণদের কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে আত্মকর্মসংস্থানের পথে এগিয়ে নিতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শুধু নিরাপত্তা নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতেও সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এরই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জুরাছড়ি জোন সদর (২ বীর)-এর উদ্যোগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দুই সপ্তাহব্যাপী মেশিন মেরামত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এতে জুরাছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মোট ২২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিয়েছেন।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মেশিন ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মৌলিক কার্যপ্রণালি, সাধারণ ত্রুটি শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবহারিক মেরামত কৌশল সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রশিক্ষণ শেষে তারা শুধু নিজের প্রয়োজনেই যন্ত্রপাতি মেরামত করতে পারবেন না, স্থানীয় পর্যায়ে মেশিন মেরামতের সেবা দিয়ে আয় করারও সুযোগ পাবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ি অঞ্চলের অনেক তরুণ-তরুণীর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও বিভিন্ন বাস্তবতায় অনেকের পক্ষেই দূরবর্তী শহরে গিয়ে চাকরি বা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে হাতে-কলমে কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করা তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

বিশেষ করে মেশিন ও যন্ত্রপাতি মেরামতের মতো ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন বেকার যুবক চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই ছোট পরিসরে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিতে পারেন। একই সঙ্গে এলাকায় এ ধরনের সেবার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ‘দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী জীবন’ গড়ার পথে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি জনগোষ্ঠীকে দীর্ঘমেয়াদে সক্ষম করে তোলা হলে এর সুফল ব্যক্তি ছাড়িয়ে পরিবার ও পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

রাঙ্গামাটি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জুরাছড়ি জোন সদর (২ বীর)-এর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্যও হচ্ছে অংশগ্রহণকারীদের বাস্তবমুখী কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে ভবিষ্যতে নিজস্ব কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সক্ষম করে তোলা।

স্থানীয় জনগণের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থ-সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পাহাড়ের দুর্গম জনপদে যখন কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত, তখন বেকার তরুণদের হাতে কাজ শেখানোর এমন উদ্যোগ তাদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে কর্মসংস্থান; আর কর্মসংস্থান থেকেই স্বাবলম্বী পাহাড় গড়ার এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।