বিলাইছড়ি জোনের উদ্যোগে মিডওয়াইফ নার্সিং প্রশিক্ষণ শুরু


বিলাইছড়ি প্রতিনিধি    |    ০৭:৫৩ পিএম, ২০২৬-০৯-০৬

বিলাইছড়ি জোনের উদ্যোগে মিডওয়াইফ নার্সিং প্রশিক্ষণ শুরু

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে নিরাপদ মাতৃসেবা নিশ্চিত করা, নারীদের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিলাইছড়ি জোনের উদ্যোগে মিডওয়াইফ নার্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা হাসপাতালে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

বিলাইছড়ি জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই প্রশিক্ষণ আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

প্রশিক্ষণে মোট ২১ জন নারী অংশগ্রহণ করছেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এবং ৫ জন বাঙালি প্রশিক্ষণার্থী রয়েছেন।

স্থানীয় নারীদের স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

প্রশিক্ষণ চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপদ মাতৃত্ব, গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন সেবা, প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যা, নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ে প্রয়োজনীয় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় এখনো অনেক নারী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হন।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব নারী ভবিষ্যতে নিজ নিজ এলাকায় মাতৃস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সুবিধাভোগীরা এ উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তাঁদের মতে, এমন প্রশিক্ষণ নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এ ধরনের মানবিক ও উন্নয়নমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করায় তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিলাইছড়ি জোন সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও স্থানীয় জনগণের কল্যাণে এ ধরনের জনমুখী ও মানবিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।