বিলাইছড়িতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি


বিলাইছড়ি প্রতিনিধি    |    ০৭:৪৮ পিএম, ২০২৬-০৯-০৬

বিলাইছড়িতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রাঙামাটির বিলাইছড়িতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন ও পরিদর্শন করেন বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন।

এ সময় তিনি পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজেশ প্রসাদ রায়, ১ নম্বর বিলাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু সুনীল কান্তি দেওয়ান, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. রেজাউল করিম রনি, বিলাইছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শুভাশীষ চক্রবর্তী, উপজেলা জাসাসের সভাপতি মো. জাকির হোসেন এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিলন চাকমা।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কর্মসূচিটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

এ সময় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় এবং পরিবেশগত সংকটের এই সময়ে বৃক্ষরোপণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

একটি গাছ শুধু অক্সিজেন সরবরাহই করে না, বরং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ভূমিক্ষয় রোধ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তারা আরও বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হতে হবে।

একই সঙ্গে রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে সবুজে ঘেরা, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব বিলাইছড়ি গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।

উপস্থিত অতিথিরা সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তা বড় করে তোলার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।

তাদের মতে, সম্মিলিত উদ্যোগেই পরিবেশ সংরক্ষণ এবং টেকসই উন্নয়নের পথ আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।